মেসি একটা রূপকথার নাম। ৩৮ বছর বয়সেও অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি। বিপক্ষ দলের ৪ জন ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে ম্যাচের ৯৫ মিনিটেও যিনি ম্যাজিক ছড়াতে পারেন মাঠে, তিনি লিওনেল মেসি। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ফের একগুচ্ছ রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরলেন G.O.A.T।
টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গ্রুপ ‘জে’-র রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাঠে নামার আগেই জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ডের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। আর ম্যাচের শেষে সেই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। জোড়া গোল করে ক্লোসেকে টপকে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনন্য নজির গড়লেন ৩৯ ছুঁইছুঁই এলএম১০ (LM10)।
পেনাল্টি মিসের নাটকীয়তা কাটিয়ে ঐতিহাসিক ৩৯ মিনিট
রেকর্ড ভাঙার এই রাতটি অবশ্য সহজে আসেনি, ম্যাচ জুড়েই ছিল টানটান নাটকীয়তা। ম্যাচের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের সামনে বেশ কিছুটা হতাশ হতে হয়েছিল মেসিকে, এমনকি একটি পেনাল্টি কিক মারার সুবর্ণ সুযোগও হাতছাড়া করেন তিনি। তবে ৩৯তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
মেসির বাড়ানো পাস থেকে ক্রিস্টিয়ান মেদিনা বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন এবং থিয়াগো আলমাদার চমৎকার ডামির পর ছুটে এসে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারকে পরাস্ত করে ফার্স্ট-টাইম শটে বল জালে জড়ান মেসি। এই গোলের সাথেই ক্লোসের রেকর্ড ভেঙে ১৭তম গোলটি সেরে ফেলেন তিনি।
শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল এবং শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা
{{/usCountry}}শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল এবং শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা
{{/usCountry}}ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় এবং বিশ্বকাপের ১৮ নম্বর গোলটি করেন ইন্টার মায়ামির এই প্লে-মেকার। হুলিয়ান আলভারেজের শট সেভ হওয়ার পর ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশ করে দলের ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’ (Round of 32)-এর টিকিট পাকা করে ফেলল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা。
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকেই শুরু হয়েছিল কাউন্টডাউন
অস্ট্রিয়া ম্যাচের ঠিক কয়েক দিন আগেই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দেশের জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের সামান্য চোট নিয়েও জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখান ৩৭ বছর বয়সী (টুর্নামেন্ট শুরুর সময়) মেসি। ৩-০ ব্যবধানে জেতা সেই ম্যাচে বিশ্বকাপের কেরিয়ারের প্রথম দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকটি তুলে নিয়ে ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন তিনি।
৪. ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন কিলিয়ান এমবাপে
লিওনেল মেসি গোলসংখ্যার তালিকায় নিজেকে সবার ওপরে নিয়ে গেলেও, এই রেকর্ড কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ মেসির এই রেকর্ডকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপে।
২৭ বছর বয়সী এমবাপে সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে নিজের গোলের সংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গেছেন। সোমবার ইরাকের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ম্যাচ রয়েছে, যেখানে এমবাপের সামনে সুযোগ থাকছে ব্যবধান আরও কমিয়ে আনার। যেহেতু এমবাপের সামনে ২০৩০ এবং ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ খেলার বয়স ও সুযোগ দুই-ই রয়েছে, তাই মেসির গড়া এই ইতিহাস আগামী দিনে নতুন করে পুনর্লিখিত হতে পারে। তবে আপাতত ফুটবল দুনিয়ার মুকুটহীন সম্রাট লিওনেল মেসিই।