...
...
Next Story

Lionel Messi farewell Speech: কেউ কেউ চায় না আর্জেন্টিনা সফল হোক, বিদায়ী ভাষণে বিশ্বকাপ বিতর্ক উসকে দিলেন মেসি

মেসিই জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। তবে বিদায়ের মুহূর্তেও শুধু আবেগ নয়। আর্জেন্টিনাকে দিয়ে গেলেন এক কঠিন সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ চায় না আর্জেন্টিনা সফল হোক’। তাঁর এই রহস্যমাখা মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও চর্চা।

Published on: Oct 7, 2026, 09:02:00 IST
Advertisement

বিদায় শব্দটা উচ্চারণ করতেই কেঁপে উঠল গলা। চোখে জল। গ্যালারি জুড়ে কান্না। সামনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার সমর্থক। হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা। মুখে একটাই নাম, মেসি। সেই মেসিই জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। তবে বিদায়ের মুহূর্তেও শুধু আবেগ নয়। আর্জেন্টিনাকে দিয়ে গেলেন এক কঠিন সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ চায় না আর্জেন্টিনা সফল হোক’। তাঁর এই রহস্যমাখা মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও চর্চা।

মেসি বলেন, ‘কেউ কেউ চায় না আর্জেন্টিনা সফল হোক’। তাঁর এই রহস্যমাখা মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও চর্চা। (AP)
মেসি বলেন, ‘কেউ কেউ চায় না আর্জেন্টিনা সফল হোক’। তাঁর এই রহস্যমাখা মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও চর্চা। (AP)

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেললেন লিয়োনেল মেসি। মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ছিল সেই ঐতিহাসিক রাত। ম্যাচে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। পাশাপাশি দুটো গোলেও সহায়তা করেন তিনি। মাঠে তাঁর শেষ উপস্থিতিও তাই হয়ে রইল স্মরণীয়।

কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আসল আবেগের বিস্ফোরণ। মাইক্রোফোন হাতে মেসি সামনে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। সারা বিশ্বের যেখানেই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন, সমর্থকদের ভালবাসা পেয়েছেন। সেই ভালবাসা তিনি কোনও দিন ভুলবেন না।

মেসি বলেন, তিনি আরও অনেক দিন এই জার্সি পরে মাঠে থাকতে চাইতেন। মনুমেন্টালে সমর্থকদের সামনে খেলতে চাইতেন। কিন্তু সময় থেমে থাকে না। বয়স বাড়ে। একটা সময় থামতেই হয়। সেই বাস্তবতাই এবার মেনে নিতে হয়েছে তাঁকে।

মেসির মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তার ঐক্য। দলের মধ্যে বন্ধন তৈরি না হলে বড় সাফল্য পাওয়া কঠিন। আর সবাই একসঙ্গে থাকলে যে কোনও বাধা পেরোনো সম্ভব। বিশ্বকাপ থেকে কোপা আমেরিকা, সব জায়গাতেই সেই ঐক্যকে তিনি সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখেছেন।

মেসির বিদায়ের সঙ্গে ফিরে এসেছে পুরনো স্মৃতিও। একটা সময় জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হত। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। কিন্তু সেই মেসিই পরে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন। জিতেছেন ফাইনালিসিমা। ২০২২ সালে কাতারে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অপূর্ণতার জায়গা আর বাকি নেই।

নিজের বিদায়ী ভাষণে সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মেসি। বলেছেন, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সেই স্বপ্ন পূরণে সমর্থকদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়। তাই বিদায়ের মুহূর্তে কৃতজ্ঞতার শেষ ছিল না তাঁর কণ্ঠে। তবে মেসির বিদায় মানেই আর্জেন্টিনার জন্য একটি যুগের শেষ। ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে তাঁর নাম এমন ভাবে জড়িয়ে গেছে যে সেই জায়গা পূরণ করা সহজ হবে না। নতুন প্রজন্মের সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব।

মেসি নিজেও জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে দূরে গেলেও আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন। নতুন ফুটবলারদের সমর্থন করবেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় বার্তা একটাই। বিভাজন নয়, একজোট থাকতে হবে। কারণ তাঁর মতে, একসঙ্গে থাকলে আর্জেন্টিনাকে হারানো যে কারও পক্ষে কঠিন।

একটি জয় দিয়ে শুরু হয়নি তাঁর বিদায়। একটি জয় দিয়েই শেষ হল। মাঝখানে ছিল অসংখ্য কান্না, সমালোচনা, অপমান, ট্রফি আর ইতিহাস। এবার মাঠ ছাড়লেন মেসি। রেখে গেলেন ১০ নম্বর জার্সি, অগণিত স্মৃতি আর একটি শেষ সতর্কবার্তা। আর্জেন্টিনা কতটা সেই বার্তা মনে রাখে, এখন সেটাই দেখার।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks