Success Story: ১৬ বছরে শোনার ক্ষমতা হারান অনেকটা, সেই মেয়ে ৪ মাস পড়েই ক্র্যাক করে ফেললেন UPSC
Success Story: ১৬ বছরে শোনার ক্ষমতা হারান অনেকটা। সেই মেয়ে সৌম্যা শর্মা চার মাস পড়েই ক্র্যাক করে ফেললেন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা একমনে পড়াশোনা করতেন। টিপসও দিলেন প্রার্থীদের।
Success Story: মাত্র ১৬ বছরেই শারীরিক সমস্যায় শ্রবণশক্তি প্রায় পুরোটাই হারিয়ে ফেলেন। তবে তাতে থেমে যাননি দিল্লির মেয়ে সৌম্যা শর্মা। আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তারপর ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দেন। আর তাতে বাজিমাত করেন। হন আইএএস অফিসার।

সৌম্যা পরিবারে শিক্ষার পরিবেশ ছিল। তাঁর বাবা ও মা চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ল স্কুল (NLU) থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। অর্জন করেন আইনের ডিগ্রি। আইন পড়ার সময়ই দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাজসেবা করার তাগিদ অনুভব করেন সৌম্যা। সেখান থেকেই সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মাত্র ৪ মাসের কঠোর সাধনা ও আত্মপ্রস্তুতি
আইনের পড়াশোনা শেষ করার পর ২০১৭ সালে সৌম্যা প্রথমবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তাঁর হাতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় ছিল মাত্র চার মাসের মতো। সীমিত সময়কে নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে সৌম্যা কঠোর রুটিন তৈরি করেন।
১) ১০-১৫ ঘণ্টার নিবিড় পড়াশোনা: প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা একমনে পড়াশোনা করতেন।
২) সেলফ স্টাডিতে জোর: কোনও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের তৈরি কৌশল ও সেলফ-স্টাডির উপর অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
৩) নির্দিষ্ট সিলেবাসে ফোকাস: কম সময়ে পুরো সিলেবাস কভার করার জন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিয়ে রিভিশন এবং শর্ট নোটসের উপর জোর দিয়েছিলেন।
স্যালাইন নিয়েই UPSC মেইনস পরীক্ষা দেন
সৌম্যার UPSC সফর সহজ ছিল না। ইউপিএসসি মেইনস পরীক্ষার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল যে, প্রতিদিন পরীক্ষা দেওয়ার মাঝেই দিনে তিনবার করে স্যালাইন ড্রিপ নিতে হত। স্যালাইন চ্যানেল হাতে নিয়েই তিনি একের পর এক মেইনসের উত্তরপত্র লিখে গিয়েছিলেন। আর সেটার সাফল্যও পান। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেন।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: ৩৫ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ফেল, তাতেও হার মানেননি, শেষে IAS অফিসার হলেন সেই বিজয়
UPSC সিভিল সার্ভিসেসের প্রার্থীদের টিপস
সৌম্যার মতে, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার আসল চাবিকাঠি হল ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি। যদি পরীক্ষার্থী নিজের ওপর ভরসা রেখে সঠিকভাবে টাইম-টেবিল মেনে সেলফ স্টাডি করেন, তাহলে কোচিং নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


