এশিয়ান গেমসে এত দিন সোনার পদক অধরাই ছিল লভলিনা বরগোহাঁইয়ের। একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতেও এশিয়াডের সেরার মঞ্চে উঠতে পারছিলেন না অসমের এই তারকা বক্সার। সেই অপেক্ষার অবসান হল শুক্রবার। মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে চিনের বাও জিয়ি-কে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে প্রথম বার সোনা জিতলেন লভলিনা।

এই জয় শুধু লভলিনার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের কাছেও বিশেষ এক মুহূর্ত। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের বক্সিংয়ে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় হলেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে সেই কৃতিত্ব ছিল মেরি কমের। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় পর আবার এশিয়াডের বক্সিং রিংয়ে ভারতীয় মহিলার হাতে উঠল সোনার পদক।
লভলিনার কাছে এ বারের সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি। গত এশিয়ান গেমসে, যা ২০২৩ সালে হাংঝৌয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তিনি রুপোর পদক পেয়েছিলেন। এ বার সেই রুপোর রং বদলে ফেললেন সোনায়। তার আগে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কাজাখস্তানের নাতালিয়া বোগদানভাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন লভলিনা। সেই জয়েই নিশ্চিত হয়েছিল অন্তত রুপো। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য যে আরও বড়, তা তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
শুক্রবার ফাইনালে সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই রিংয়ে নেমেছিলেন অসমের বক্সার। ফাইনালে চিনের বাও জিয়ির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিজের ছন্দ ধরে রাখেন তিনি। প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ না দিয়ে আক্রমণ এবং রক্ষণ দুই দিকেই নিয়ন্ত্রণ রাখেন লভলিনা। শেষ পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামল সোনার পদক নিয়েই।
লভলিনার কেরিয়ারে অবশ্য এর আগেই রয়েছে একাধিক বড় সাফল্য। টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। বিশ্ব বক্সিংয়েও ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক এনে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এশিয়ান গেমসের সোনা যেন বার বার তাঁর হাত ফসকে যাচ্ছিল। ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়াডে রুপো পাওয়ার পর তাই এ বার লক্ষ্য ছিল একটাই, পদকের রং বদলানো।
{{/usCountry}}লভলিনার কেরিয়ারে অবশ্য এর আগেই রয়েছে একাধিক বড় সাফল্য। টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। বিশ্ব বক্সিংয়েও ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক এনে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এশিয়ান গেমসের সোনা যেন বার বার তাঁর হাত ফসকে যাচ্ছিল। ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়াডে রুপো পাওয়ার পর তাই এ বার লক্ষ্য ছিল একটাই, পদকের রং বদলানো।
{{/usCountry}}এই সাফল্যের পথে তাঁকে কম বাধার মুখে পড়তে হয়নি। সেমিফাইনালেই বোগদানোভার বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। ৩-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছিলেন লভলিনা। সেই জয়ের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে সোনার প্রত্যাশা বাড়ছিল। শেষ লড়াইয়ে সেই প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজের সেরাটাই দিলেন তিনি।
লভলিনার এই সোনা এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতের বক্সিং দলের দারুণ সাফল্যেরও অংশ। ইতিমধ্যেই ভারতের একাধিক বক্সার পদক নিশ্চিত করেছেন এবং আরও কয়েক জন ফাইনালে উঠেছেন। ফলে লভলিনার সোনা ভারতীয় বক্সিং দলের জন্যও বড় প্রেরণা।
অসমের গোলাঘাট জেলার বারোমুখিয়া থেকে উঠে আসা লভলিনার কাছে শুক্রবারের সকাল তাই শুধু একটি জয়ের দিন নয়। যে মঞ্চে এত দিন রুপো বা ব্রোঞ্জেই থামতে হয়েছিল, সেখানেই এ বার তিনি সোনার মুকুট পরলেন। এশিয়াডে তাঁর অপেক্ষার অবসান হল, আর ভারতীয় বক্সিংয়ের ইতিহাসে যোগ হল আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।