এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নয়া নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে দেশে। এরই মাঝে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, ফোন থেকে করা যাচ্ছে না বুকিং। জানা গিয়েছে, ই-কেওয়াইসি (নো ইওর কাস্টোমার বা গ্রাহক পরিচয় যাচাই) করা না থাকায় অনেক গ্রাহকরাই সমস্যায় পড়েছেন। জানা গিয়েছে, গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি না থাকলে সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে সকাল থেকেই লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে গ্রাহকদের।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে। এর জেরে দক্ষিণ ভারতে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরে একাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাতে গ্যাসের সংকট না হয়, তার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে ই-কেওয়াইসি না থাকা গ্রাহকদের মাথায় হাত পড়েছে।
এই আবহে ই-কেওয়াইসি-র জন্য কী করতে হবে? এর জন্য গ্যাস ডিলারের অফিসে গিয়ে আধার ও মোবাইল নম্বর দিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে হবে। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে আধার ওটিপি দিয়েও করানো যায় ই-কেওয়াইসি। ডিলারদের বক্তব্য, জ্বালানি সংস্থা থেকে তাঁদের বলে দেওয়া হয়েছে, ই-কেওয়াইসি করানোটা গ্রাহকদের জন্য অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, ভারত মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে। এই আবহে ভারতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে চালু হয়েছে নয়া নিয়ম। এখন থেকে ২৫ দিন অন্তর অন্তর সিলিন্ডারের বুকিং করা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা সম্ভব। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে দেশ।