দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের উপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আবার আগের মতো এলপিজি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে গিয়েছে। এর ফলে বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানিও সহজ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হত, তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, ক্যাটারিং সংস্থা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপিজির সরবরাহ কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান সমস্যার মুখে পড়েছিল। উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গিয়েছিল। এখন সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু বাণিজ্যিক এলপিজিই নয়, বাল্ক এলপিজি সরবরাহও আংশিকভাবে স্বাভাবিক করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ বাল্ক এলপিজি সরবরাহ করা হত, তার প্রায় ৫০ শতাংশ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস)-এর ক্ষেত্রে এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফেরেনি। বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য পিএনজি সরবরাহে আগের বিধিনিষেধ এখনও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন প্রয়োগ করেছিল। সেই সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সি৩ ও সি৪ হাইড্রোকার্বন স্ট্রিম মূলত এলপিজি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ফলে এই কাঁচামাল পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহার করা যায়নি। এর প্রভাব পড়েছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-সহ একাধিক বড় শিল্প সংস্থার উৎপাদনে।
{{/usCountry}}ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন প্রয়োগ করেছিল। সেই সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সি৩ ও সি৪ হাইড্রোকার্বন স্ট্রিম মূলত এলপিজি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ফলে এই কাঁচামাল পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহার করা যায়নি। এর প্রভাব পড়েছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-সহ একাধিক বড় শিল্প সংস্থার উৎপাদনে।
{{/usCountry}}এবার সেই বিধিনিষেধও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে সি৩ ও সি৪ স্ট্রিম আবার পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার করা যাবে। তবে একটি শর্ত রাখা হয়েছে। দেশে প্রতিদিন অন্তত ৪০ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন বজায় রাখতে হবে। সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন গৃহস্থালি গ্রাহকদের এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, তেমনি শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও উৎপাদন এবং ব্যবসায় নতুন গতি ফিরবে।