LPG Supply Latest Update: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত। মার্কিন হামলার পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসি জানিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত এই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসন চলবে, ততদিন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রফতানি করতে দেওয়া হবে না। এই হুঁশিয়ারির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্বজুড়েই অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম বাড়তে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস বা এলপিজির দামের উপর। ভারতও এই প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে না।
ভারত গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়েছে। তবে এলপিজির ক্ষেত্রে এখনও পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশের মোট রান্নার গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয় এবং তার প্রায় ৯০ শতাংশ এতদিন হরমুজ প্রণালী দিয়েই এসেছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সরবরাহ ব্যাহত হলে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়তে পারে এলপিজির বাজারে।
তবে আপাতত সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বর্তমানে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও আতঙ্কে অতিরিক্ত সিলিন্ডার কেনার প্রবণতাও দেখা যায়নি। যদিও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি সংকট আরও গভীর হয়, তাহলে এলপিজি বুকিংয়ের নিয়মে কিছু কড়াকড়ি আনা হতে পারে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।
এদিকে ইরানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই মার্কিন সেনা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হবে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে ইরানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই মার্কিন সেনা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হবে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
{{/usCountry}}বর্তমানে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। সরকারি তেল সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ২,৯৩০ টাকা। কলকাতায় গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,০৮১.৫০ টাকা। পাটনায় গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ১,০৩১.৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,২২৭ টাকা। লখনউতে যথাক্রমে ৯৭৯.৫০ টাকা ও ৩,০৫২.৫০ টাকা। অন্যদিকে লেহে সবচেয়ে বেশি দাম, যেখানে গৃহস্থালি সিলিন্ডারের মূল্য ১,১৯৬.৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,৫৯৪.৫০ টাকা। বিশ্ব পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে জ্বালানির ভবিষ্যৎ বাজার। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারত-সহ বহু দেশের জ্বালানি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।