পঞ্জাবের লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। পরিস্থিতি শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিল, তা নিয়েই এ বার উঠল নতুন প্রশ্ন। ওই ভিডিয়োয় যে তিন ছাত্রীকে দেখা গিয়েছিল, তাঁদেরই দাবি, কী বলতে হবে তা তাঁদের আগে থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিয়োটি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

ঘটনার সূত্রপাত এলপিইউ ক্যাম্পাসে একটি ধর্ষণের খবর ছড়ানোকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হস্টেলে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। পরে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও গুজব ছড়ায়। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই খবরকে কেন্দ্র করে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদের একাংশ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর করে এবং কিছু জায়গায় আগুনও জ্বালানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি ছিল, ক্যাম্পাসে কাজ করা এক বাইরের ব্যক্তি নাকি মেয়েদের হস্টেলে ঢুকে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সমর্থনে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে থাকা তিন ছাত্রীও প্রথমে এমন কোনও ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। পরে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটও গঠন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এলপিইউর রেজিস্ট্রার ডক্টর মনিকা গুলাটি একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে পাঁচ নম্বর ঘরের তিন ছাত্রীকে দেখিয়ে বলা হয়, ওই ঘরে কোনও ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীরা ভিডিয়োয় জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরে থাকছেন এবং তাঁদের ঘরে এমন কিছু ঘটেনি। পুলিশ এবং অন্য ছাত্রদের তাঁদের বিরক্ত না করার অনুরোধও করেন তাঁরা।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে এলপিইউর রেজিস্ট্রার ডক্টর মনিকা গুলাটি একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে পাঁচ নম্বর ঘরের তিন ছাত্রীকে দেখিয়ে বলা হয়, ওই ঘরে কোনও ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীরা ভিডিয়োয় জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরে থাকছেন এবং তাঁদের ঘরে এমন কিছু ঘটেনি। পুলিশ এবং অন্য ছাত্রদের তাঁদের বিরক্ত না করার অনুরোধও করেন তাঁরা।
{{/usCountry}}কিন্তু পরে সামনে আসে আর একটি ভিডিয়ো। সেখানে ওই একই ছাত্রীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু কথা বলতে বলেছিল। তাঁদের অভিযোগ, সেই অনুযায়ী ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়। পরে ভিডিয়োর একটি অংশ কেটে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের ভিডিয়ো নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক আকার নেয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জালন্ধর ফগওয়ারা জাতীয় সড়কের একটি অংশও ছাত্রদের একাংশ অবরোধ করেন। পরে পুলিশ সেই রাস্তা খালি করে দেয়। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, অশান্তির সময় তাদের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্য দিকে, এলপিইউ কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনাকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর খবর বলে দাবি করেছে। ছাত্রদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে ক্যাম্পাসে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। স্থগিত করা হয়েছে মাঝের সেমেস্টারের পরীক্ষাও। নতুন পরীক্ষার সূচি পরে জানানো হবে।
এখন পুলিশের তদন্তে মূল প্রশ্ন, ধর্ষণের অভিযোগের আদৌ কোনও সত্যতা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে ছাত্রীদের ভিডিয়ো নিয়ে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ একটি অপ্রমাণিত অভিযোগ থেকেই যে ভাবে বড়সড় অশান্তি ছড়িয়েছে, তাতে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনা এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।