LPU Latest Update: এলপিইউতে তাণ্ডবের নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্র? পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত আশোক মিত্তলের
এলপিইউতে তাণ্ডবের ঘটনায় এ বার বড় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ আশোক মিত্তল। তাঁর দাবি, এই ঘটনা শুধু এলপিইউ বা তাঁকে নিশানা করে হয়নি। এর পিছনে পঞ্জাবকে অশান্ত এবং অস্থিতিশীল করার কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে।
LPU Latest Update: পঞ্জাবের ফগওয়ারায় লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে তাণ্ডবের ঘটনায় এ বার বড় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ আশোক মিত্তল। তাঁর দাবি, এই ঘটনা শুধু এলপিইউ বা তাঁকে নিশানা করে হয়নি। এর পিছনে পঞ্জাবকে অশান্ত এবং অস্থিতিশীল করার কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে। সেই সূত্রেই পাকিস্তানের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই আশঙ্কা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুন: ভালো সম্পর্ক, তবু প্রতি বৈঠকেই প্রশ্ন মোদীর! ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কী বললেন পুতিন
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। সমাজমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, এলপিইউয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সেই খবর ঘিরে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তা বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগে গড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কেও অবরোধ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুন: আবার ১০০ ডলারের পার! পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা, চাপ বাড়ছে ভারতের বাজারে
এই ঘটনার নেপথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিত্তল। তাঁর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে একটি মিথ্যা খবর কী ভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, কারা ছাত্রদের উত্তেজিত করল এবং পরে কারা এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ করল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, পঞ্জাব পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজ্য। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান নানা ভাবে ভারতের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করে থাকে। তাই এলপিইউয়ের ঘটনার সঙ্গেও সীমান্তের ওপারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফরে ভারতের এসসিও কোঅর্ডিনেটর, কী বলছে পাক বিদেশ মন্ত্রক?
শুধু এলপিইউ নয়, রাজরার চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘটনার সঙ্গেও তিনি মিল খুঁজেছেন। মিত্তলের দাবি, সেখানে এবং এলপিইউতে প্রায় একই ধরনের ঘটনা পর পর ঘটেছে এবং দু’ক্ষেত্রেই রেডিটের মতো সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এই মিল কি নিছক কাকতালীয়, নাকি পরিকল্পিত কোনও চক্রান্তের অংশ, সেটিই এখন তদন্তের বিষয়।
তবে পুলিশের তদন্তে এখনও পাকিস্তানের কোনও যোগের প্রমাণ সামনে আসেনি। বরং পুলিশ জানিয়েছে, এলপিইউতে অশান্তির সময় ওয়াকিটকি হাতে যাঁদের দেখা গিয়েছিল, তাঁরা বাইরে থেকে আসা কোনও দুষ্কৃতী নন। তাঁরা ভারতীয় সেনার একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং এক সেনা আধিকারিকের সন্তানকে নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন।
এ দিকে এলপিইউয়ের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্য ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জাতীয় সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি আদালতেও গিয়েছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। গুজবের পিছনে সত্যতা কতটা ছিল, কারা হিংসায় জড়িত এবং সমাজমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস কী, সে সবই খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি।
ফলে এলপিইউ কাণ্ডে এখন শুধু ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নয়, সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর নেপথ্যে কারা ছিল, সেই প্রশ্নও বড় হয়ে উঠেছে। আশোক মিত্তল পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুললেও তদন্তের ফল কী বলে, সেটাই এখন দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


