Madhya Pradesh Cabinet: মধ্যপ্রদেশে এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকরের পথে আরও একধাপ এগোল বিজেপি সরকার। রবিবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া অনুমোদন করল বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার আসন্ন বাদল অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ইউসিসি বিল।

ভোপালের কাছে জগদীপুরে রবিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই পদক্ষেপকে রাজ্যের গৌরবময় অতীতের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং সকল নাগরিকের জন্য সমতা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এবার রাজ্যে 'রাম ও রহিম'-সহ সকলের জন্য একটিই অভিন্ন আইন কার্যকর হবে। তিনি জানান, সংবিধানের ৩৪২ ও ৩৬৬ (অনুচ্ছেদ ২৫)-এর আওতাভুক্ত তফসিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রে এই বিল প্রযোজ্য হবে না। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে কমিটি বিভিন্ন রাজ্যের আইনি মডেল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং একটি ডেডিকেটেড ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ১০ লক্ষেরও বেশি পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া অনুমোদনের ফলে 'তিন তালাক' ও 'বহুবিবাহ' নিষিদ্ধকরণের পথে একধাপ এগোল মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সরকার। অপরপক্ষে সব ধর্মের মানুষের অভিন্ন বিবাহ এবং বিচ্ছেদ আইন গ্রাহ্য হবে অদূর ভবিষ্যতে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পুরসভা-রাজ্যের সর্বত্র বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া খসড়াটিতে 'নিকাহ হালালা'-র মতো প্রথাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সম্পত্তির মালিককে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া যে কোনও ব্যক্তিকে মৃতের সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটিতে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের জন্যও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এক মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। নাম নথিভুক্ত না করলে বা ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে জরিমানা এবং কারাদণ্ড-সহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিবাহিত কোনও ব্যক্তি যদি স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কারো সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খসড়ায়।
{{/usCountry}}মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া অনুমোদনের ফলে 'তিন তালাক' ও 'বহুবিবাহ' নিষিদ্ধকরণের পথে একধাপ এগোল মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সরকার। অপরপক্ষে সব ধর্মের মানুষের অভিন্ন বিবাহ এবং বিচ্ছেদ আইন গ্রাহ্য হবে অদূর ভবিষ্যতে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পুরসভা-রাজ্যের সর্বত্র বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া খসড়াটিতে 'নিকাহ হালালা'-র মতো প্রথাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সম্পত্তির মালিককে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া যে কোনও ব্যক্তিকে মৃতের সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটিতে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের জন্যও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এক মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। নাম নথিভুক্ত না করলে বা ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে জরিমানা এবং কারাদণ্ড-সহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিবাহিত কোনও ব্যক্তি যদি স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কারো সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খসড়ায়।
{{/usCountry}}বিবাহবহির্ভূতভাবে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও সমান আইনি মর্যাদা ও উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। দত্তক, সারোগেসি, প্রজনন-সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রেও। এছাড়াও, নতুন আইন পাশ হলে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনও নারীকে তাঁর পুরুষ সঙ্গী পরিত্যাগ করলে, তিনি আদালতের মাধ্যমে খোরপোশ দাবি করতে পারবেন। উপজাতি সম্প্রদায়গুলোর জন্য থাকা সাংবিধানিক সুরক্ষা ও অধিকারের কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবিত এই ইউসিসি তপশিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যেসব যাযাবর ও অর্ধ-যাযাবর সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংরক্ষিত সামাজিক রীতি ও ঐতিহ্য রয়েছে, তাদেরও এই আইনের আওতায় বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আইন নাগরিকদের ধর্মীয় রীতি ও প্রথা পালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না এবং 'কোনও ধর্মকে আঘাত বা লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করা হয়নি।'
বিধানসভা অধিবেশনে বিলটি পেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ নিয়ে রাজনেতিক তরজা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপি যেখানে এই আইনকে লিঙ্গসমতা এবং আইনি অভিন্নতা নিশ্চিত করার অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলে আপত্তি জানিয়েছে, যদি উদ্দেশ্যটি সত্যিই ‘অভিন্ন’ দেওয়ানি বিধি তৈরি করাই হয়, তবে তপশিলি উপজাতিদের কেন এই আইনের আওতা থেকে বাইরে রাখা হলো?