Ujjain Police vs Protestors: সিংহস্থ মেলার প্রস্তুতিতে রাস্তা চওড়া করার কাজ ঘিরে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ফের উত্তেজনা। শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একদল মানুষ পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফও।

ঘটনাটি ঘটেছে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার আগে শহরের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই বেশ কয়েকটি রাস্তা চওড়া করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে মোট ২৭২টি নির্মাণ কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশও রয়েছে। প্রস্তাবিত রাস্তার পরিসরের মধ্যে পড়া মসজিদের কিছু অংশ সরানোর কথা।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। রবিবার রাত থেকেই মসজিদের আশপাশে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থাপনা বাদ দিয়েই রাস্তা চওড়া করার অন্য উপায় খোঁজা উচিত। রাতভর অবস্থানের পর সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসন কাজ শুরু করতে গেলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ সামনে এগিয়ে আসেন। এরপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পরে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের খবর।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এক পুলিশ আধিকারিকও বিক্ষোভকারীদের সরানোর সময় হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নারী বিক্ষোভকারীদের সরানোর সময় ওই আধিকারিকের হাতে একটি শিটের ধার লেগে যায়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এক পুলিশ আধিকারিকও বিক্ষোভকারীদের সরানোর সময় হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নারী বিক্ষোভকারীদের সরানোর সময় ওই আধিকারিকের হাতে একটি শিটের ধার লেগে যায়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}শাহী মসজিদ নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে আবেদন করেছিল। ৯ সেপ্টেম্বর একক বিচারপতির বেঞ্চ উজ্জয়ন পুরনিগমের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছিল, রাস্তা চওড়া করার প্রক্রিয়ায় পুরসভা নির্ধারিত নিয়ম মেনেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছিল, একই রাস্তা চওড়া করার কাজে কয়েকটি মন্দিরের অংশও সরানো হয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছে। সোমবার সেই মামলার শুনানির কথাও ছিল। ফলে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দিকে প্রশাসনের বক্তব্য, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উজ্জয়নে আসবেন। সেই সময় যানজট এবং নিরাপত্তার সমস্যা কমাতে রাস্তা চওড়া করা প্রয়োজন।
শাহী মসজিদের ইমাম এবং স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, মসজিদটি বহু পুরনো এবং ওয়াকফ সম্পত্তি। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তার অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে প্রকল্পটি করা সম্ভব। প্রশাসন অবশ্য রাস্তার নির্ধারিত নকশা এবং জনস্বার্থের কথা সামনে রেখেছে।
এই ঘটনায় কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়িও আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়টি আরও সংবেদনশীল ভাবে দেখা উচিত। তবে মসজিদটির ঐতিহাসিক বয়স এবং অন্যান্য দাবিগুলি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে, যার সবগুলি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
এদিকে সোমবারের সংঘর্ষের পরও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আগামী দিনে আদালতের নির্দেশ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপেই ঠিক হবে, রাস্তা চওড়া করার কাজ কী ভাবে এগোয়।