Paper Leak Accused Arrested: মহারাষ্ট্রের টেট (TET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই মামলার মূল অভিযুক্ত বলে পরিচিত বিজেন্দ্র গুপ্তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম মূল মাথা ছিলেন বিজেন্দ্র। তাঁর গ্রেপ্তারের ফলে এই চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেন্দ্র গুপ্তা বিহারে আত্মগোপন করে ছিলেন। গোয়েন্দাদের কাছে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে একাধিক তথ্য থাকলেও বারবার অভিযান চালিয়েও তাঁকে ধরা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে আরও এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে এই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই কপিল দাহিয়া, মিঠুন সিং এবং সোনু সিং নামে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কিন্তু সেই সময়ও বিজেন্দ্র পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তদন্তকারীরা তাঁর খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালালেও তিনি অধরাই থেকে যান। শেষ পর্যন্ত বিহার থেকেই তাঁকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, ২০২৪ সালে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্টিং অপারেশনের পর প্রথমবার বিজেন্দ্র গুপ্তার নাম সামনে আসে। সেই গোপন ভিডিওতে তাঁকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেট কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে দেখা গিয়েছিল। ওই স্টিং অপারেশনেই পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতাও সামনে আসে। এরপর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে চলে আসেন বিজেন্দ্র।
পুলিশের সন্দেহ, শুধু টেট নয়, আরও একাধিক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও তাঁর যোগ থাকতে পারে। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের ফলে প্রশ্নফাঁসের বড় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।
{{/usCountry}}পুলিশের সন্দেহ, শুধু টেট নয়, আরও একাধিক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও তাঁর যোগ থাকতে পারে। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের ফলে প্রশ্নফাঁসের বড় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।
{{/usCountry}}এই মামলায় বিজেন্দ্র গুপ্তার স্ত্রী সুমন গুপ্তাকেও আগেই বিহার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের পুরো চক্র সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে দিল্লি ও পাটনায় সম্পত্তি কেনা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সম্পত্তির নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে দেশজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। তার মধ্যেই টেট প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, বিজেন্দ্র গুপ্তাকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী দিনে তদন্তে আরও বড় তথ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।