...
...
Next Story

Gyanesh Kumar FIR: সিইসি-কে 'পদত্যাগ' চাপ! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে FIR মহুয়ার, আদালত অবমাননার মামলার উদ্যোগ

Gyanesh Kumar FIR: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

Published on: Sep 24, 2026, 17:43:32 IST
Advertisement

Gyanesh Kumar FIR: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্রজেশ সিং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা শুরু করার অনুমতি চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানিকে চিঠি দিয়েছেন।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে FIR মহুয়া মৈত্রের, আদালত অবমাননার মামলার উদ্যোগ
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে FIR মহুয়া মৈত্রের, আদালত অবমাননার মামলার উদ্যোগ

বুধবার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্ত রিপোর্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের ১৪টি সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখেই জ্ঞানেশ কুমার ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর জেরে এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আবহে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশনের ভূমিকা। বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছেন। সেই রিপোর্টের সূত্র ধরেই এদিন সরাসরি পুলিশের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানান মহুয়া মৈত্র। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর মূলত তিনটি গুরুতর বিষয় সামনে এনেছেন এই তৃণমূল সাংসদ।

তিনি বলেন, ‘এসআইআর-এর সময়ে ফর্ম ৬-এ নতুন করে জানতে চাওয়া হয়, নতুন ভোটারের বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমা গত এসআইআর-এর ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। কিন্তু বিধি না বদলে এ কাজ করা যায় না। তা সত্ত্বেও করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যে ১৬.১০ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেই নামের বিরুদ্ধে কারা আপিল করেছেন? তৃতীয়ত জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের ডিজি (আইটি) সীমা খান্নার সঙ্গে মিলে ভোটার তালিকা ইচ্ছেমতো বদলেছেন। বিএলও, ইআরও-দের অ্যাকসেস ডিনাই করে এই কাজ তাঁরা করেছেন।’ অন্যদিকে, ব্রজেশ সিংয়ের চিঠির বিষয়টি আদালত অবমাননার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। সুপ্রিম কোর্টে ফৌজদারি আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল বা সলিসিটর জেনারেলের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন। সেই কারণেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৯৭ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য ৭ দিনে আট বার ইমেল করেছিলেন গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনও উত্তর আসেনি বলে অভিযোগ। এ ক্ষেত্রেও কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে সেই সীমা খান্নাকে, যিনি কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের পদে রয়েছেন। এসআইআর-পর্বে গত ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গোয়ায়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওই ৯৭ জনের। অথচ ওই তালিকা প্রকাশের চার দিন আগে ৯৭ জনের নাম ঢোকানোর জন্য অষ্টম ইমেলটি করেছিলেন গোয়ার সিইও। মেলের প্রতিলিপি গিয়েছিল গোয়ার নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী এবং সীমা খান্নার কাছে।

এই ৯৭ জনের নামই তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় ছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই তালিকায় থাকা ভোটারদের নতুন করে নথিপত্র জমা দেওয়া কিংবা আবেদন জানানোর জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর গোয়ার ৬৪৯ জন ভোটার নথি পেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি জানান। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি আবেদনের নিষ্পত্তি করেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-রা। ৯৭ জনের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন বলছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকেরা এই ৯৭ জনের নামের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিলেও কমিশনের ইসিআইনেট সফ্‌টওয়্যারে সেগুলি ঢোকানোই হয়নি।

সিজেপি-র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা

এদিকে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা বিতর্ককে সামনে রেখে খাস রাজধানীতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। সেখান থেকেই তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে এই সংগঠন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি প্রধান দাবি করেন, দেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং ভোটারদের ভোটাধিকারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং নির্বাচনে কারচুপি করতেই পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা নিয়ে নানা কারসাজি করা হচ্ছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করার স্বার্থেই জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যথায় গত জুন মাসে যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনের আদলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তোলা হবে এবং যতদিন না সিইসি পদত্যাগ করছেন, ততদিন এই আন্দোলন থেকে তাঁরা একচুলও পিছপা হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks