Major Rishabh Singh Sambyal: সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রাক্তন এডিসি (Aide-de-Camp) মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল (Major Rishabh Singh Sambyal) ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে আগাম অবসর গ্রহণ করেছেন। এলিট ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সের (4 Para Special Forces) এই চৌকস অফিসার গত ১২ বছর ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতির দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়ালের নিয়মানুবর্তিতা, শান্ত ব্যক্তিত্ব এবং চমৎকার সামরিক আচরণের কারণে তিনি দ্রুতই সারা দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনেকে ভালোবেসে 'ন্যাশনাল ক্রাশ' হিসেবেও অভিহিত করতেন। এর আগে ২০২১ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ক্যাপ্টেন হিসেবে জাট রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়ে সেরা মার্চিং কন্টিনজেন্ট ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ এই সময়ের আগেই কেন তিনি সেনা ইউনিফর্ম খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। অবসরের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে তিনি তাঁর আশীর্বাদও নিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে ইউনিফর্ম ছাড়লেও দেশের জন্য তাঁর অবদান অন্য কোনও উপায়ে জারি থাকবে।
কে এই ঋষভ সিং সাম্বিয়াল?
ঋষভ সিং সাম্বিয়ালের লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এনডিএ (NDA) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন এবং ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ১৩৩তম এনডিএ কোর্সের অংশ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (IMA) থেকে মিলিটারি স্টাডিজ এবং ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জাট রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন হিসেবে নিজের সেনাদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি প্রথমবার পেশাগতভাবে সকলের নজর কাড়েন। সেই বছর তাঁর সেনাদলটি 'বেস্ট মার্চিং কন্টিনজেন্ট ট্রফি' জয় করেছিল। এরপর তিনি ফোর প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস (4 Para Special Forces)-এ কাজ করেন, যা 'দ্য ড্যাগার্স' নামেও পরিচিত। বিশেষ বাহিনীতে (স্পেশাল ফোর্সেস) কর্মরত অবস্থায় তিনি মর্যাদাপূর্ণ 'বলিদান ব্যাজ' অর্জন করেছিলেন বলে জানা যায়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাঁকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি (ADC) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
রাষ্ট্রপতির এডিসি হিসেবে ভূমিকা
রাষ্ট্রপতির একজন এডিসি সাধারণত বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রোটোকল, সময়সূচি এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলান। পাশাপাশি ,ওই সেনাকার্তাকে পদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও কাজ করতে হয়। ঋষভ সিং সাম্বিয়ালের পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর কাজের মধ্যে প্রোটোকল পরিচালনা, নিরাপত্তা, সফরের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির দেখভাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন সরকারি সফর এবং জনসমক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হতেন।
সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন
{{/usCountry}}রাষ্ট্রপতির একজন এডিসি সাধারণত বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রোটোকল, সময়সূচি এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলান। পাশাপাশি ,ওই সেনাকার্তাকে পদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও কাজ করতে হয়। ঋষভ সিং সাম্বিয়ালের পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর কাজের মধ্যে প্রোটোকল পরিচালনা, নিরাপত্তা, সফরের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির দেখভাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন সরকারি সফর এবং জনসমক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হতেন।
সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন
{{/usCountry}}রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পাশে তাঁর উপস্থিতির দৃশ্যগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা প্রায়শই তাঁর সুদর্শন চেহারা এবং রাষ্ট্রপতির পাশে তাঁর গুরুদায়িত্ব সামলানো নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। জনসমক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সহায়তার (যেমন- রুমাল এগিয়ে দেওয়া বা তাঁর মাথার ওপর ছাতা ধরে রাখা) ভিডিও এবং ছবিগুলিও ইন্টারনেটে তুমুল ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত থাকার সময় তিনি আবারও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ইন্টারনেটের 'ন্যাশনাল ক্রাশ' আখ্যা দিয়েছেন।