...
...
Next Story

Kaveri Engine: রাশিয়ায় পরীক্ষায় বড় সাফল্য, ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি দেখাল দেশীয় কাবেরি ইঞ্জিন, ঘাতকের পথে আরও এক ধাপ ভারত

পরীক্ষার সময় ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি দেখিয়েছে। অথচ এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪৬ কিলোনিউটন। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যের থেকেও বেশি শক্তি দিতে পেরেছে ইঞ্জিনটি। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিওর অধীন গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট বা জিটিআরই এই ইঞ্জিন তৈরি করেছে।

Published on: Oct 1, 2026, 08:31:16 IST
Advertisement

Kaveri Engine Latest Update: দেশীয় যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টায় নতুন অগ্রগতি ভারতের। রাশিয়ায় উচ্চতা ও আকাশে পরীক্ষায় সাফল্য পেল কাবেরি ড্রাই ইঞ্জিন। পরীক্ষার সময় ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি দেখিয়েছে। অথচ এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪৬ কিলোনিউটন। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যের থেকেও বেশি শক্তি দিতে পেরেছে ইঞ্জিনটি। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিওর অধীন গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট বা জিটিআরই এই ইঞ্জিন তৈরি করেছে। এখন এই ইঞ্জিনকে দেশের তৈরি গোপন প্রযুক্তির যুদ্ধ ড্রোন ঘাতকের সঙ্গে যুক্ত করার পথে এগোনো হচ্ছে।

পরীক্ষার সময় ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি দেখিয়েছে।
পরীক্ষার সময় ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি দেখিয়েছে।

কাবেরি প্রকল্পের ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরনো। দেশীয় হালকা যুদ্ধবিমান তেজসের জন্যই প্রথম এই ইঞ্জিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে প্রকল্পের শুরু এবং ১৯৮৯ সালে তা সরকারি অনুমোদন পায়। প্রথম পরিকল্পনা ছিল আফটারবার্নার যুক্ত একটি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন তৈরি করা। কিন্তু নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার সামনে পড়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে এমন উপাদান, টারবাইন ব্লেড, কম্প্রেসর প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনের ওজনের সঙ্গে শক্তির সামঞ্জস্য রাখা নিয়ে সমস্যা ছিল। মূল কাবেরী ইঞ্জিনের জন্য প্রায় ৮১ কিলোনিউটন শক্তির পরিকল্পনা থাকলেও আগের পরীক্ষায় প্রায় ৭০ কিলোনিউটনের মতো শক্তি পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তেজসের প্রয়োজন মেটাতে পারেনি কাবেরী।

সেখানেই অবশ্য প্রকল্প থেমে যায়নি। কাবেরির একটি নতুন সংস্করণ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ডিআরডিও। এই সংস্করণটি হল কাবেরি ডেরিভেটিভ ইঞ্জিন বা কেডিই। এতে আফটারবার্নার নেই। ফলে যে সব আকাশযানের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন নেই, সেখানেই এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা যায়। সেই নতুন ভূমিকার জন্যই কাবেরি এখন ঘাতক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি পাওয়ার বিষয়টি তাই নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই পরীক্ষায় সাফল্য মিলেছে মানেই ইঞ্জিনটি এখনই সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য তৈরি, এমন নয়। এখনও এয়ারওয়ার্দিনেস পরীক্ষা, শংসাপত্র এবং চূড়ান্ত বিমানের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ বাকি। পরীক্ষার সব তথ্য খতিয়ে দেখবে সেন্টার ফর মিলিটারি এয়ারওয়ার্দিনেস অ্যান্ড সার্টিফিকেশন। তার পরই পরের ধাপের সিদ্ধান্ত হবে।

ঘাতক হল ভারতের পরিকল্পিত স্টেলথ আনম্যানড কমব্যাট এয়ার ভেহিকল বা ইউসিএভি। এই ধরনের যুদ্ধ ড্রোনে কম ওজন, নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন এবং নির্দিষ্ট শক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাবেরির নতুন সংস্করণকে ঘাতকের জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে বলা হয়েছে, কাবেরি কর্মসূচির আওতায় একাধিক প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছে এবং ৩২০০ ঘণ্টারও বেশি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করা উপাদান, কম্প্রেসর এবং টারবাইন প্রযুক্তিতেও এই দীর্ঘ গবেষণা থেকে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।

তেজসকে শক্তি দিতে না পারা কাবেরি এখন অন্য ভূমিকায় নতুন করে পথ খুঁজে পেয়েছে। রাশিয়ার পরীক্ষায় ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি পাওয়ার পর সেই পথ আরও কিছুটা এগোল। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন আর ঘাতকের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কাজ শেষ হলেই এই পরীক্ষার পূর্ণ সাফল্য মিলবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks