Maldives' Muizzu Update: সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রশ্নে ফের সরব হল মালদ্বীপ। দেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-র অচলাবস্থা কাটিয়ে তাকে পুনরায় সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমেই মেটানো উচিত এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার স্বার্থে সার্কভুক্ত দেশগুলিকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও নিতে প্রস্তুত মালদ্বীপ বলেও জানান তিনি।

মুইজ্জুর এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়ে এসেছে। একই সুর শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বক্তব্যেও। এবার সেই অবস্থানের সঙ্গে কার্যত সুর মিলিয়ে সার্ককে আবার সক্রিয় করার পক্ষে সওয়াল করলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুইজ্জু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সার্ক কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার স্বার্থে সার্ককে আবার কার্যকর করে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি জোর দেন। পাশাপাশি, এই উদ্যোগে মালদ্বীপ প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেও প্রস্তুত বলে জানান।
২০১৬ সালে উরি জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির জেরে ইসলামাবাদে নির্ধারিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। ভারতের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটানও সেই সম্মেলন বয়কট করে। এরপর থেকেই সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং আর কোনও শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপার সন্ত্রাসের পরিবেশে স্বাভাবিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান বারবার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে সওয়াল করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বার্থে সার্ককে সক্রিয় করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও সার্ককে নতুন করে সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হতে পারে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে পাকিস্তান বারবার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে সওয়াল করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বার্থে সার্ককে সক্রিয় করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও সার্ককে নতুন করে সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হতে পারে।
{{/usCountry}}এই প্রেক্ষাপটে মুইজ্জুর মন্তব্যকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে মালদ্বীপের এই আহ্বানের মিল থাকায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সার্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অচলাবস্থা কাটানো না গেলে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এবং পহেলগাঁও এবং দিল্লির লালকেল্লা হামলার পর অদূর ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে উন্নতি ঘটার কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। এই আবহে ভারত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাবে বলে মনে হচ্ছে না।