ভারত বিরোধী প্রচার করেই মালদ্বীপের মসনদে বসেছিলেন মুইজ্জু। সেই মুইজ্জুর সরকার এখন ভারতের কাছে হাত পেতে রয়েছে তেলের জন্য। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ইরানের অভয়বাণী পেয়েছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি তেলের জন্য ভারতের কাছে সাহায্য চাইছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কায় তেল সরবরাহ করেছে ভারত। নেপালেও জ্বালানি সরবরাহ করেছে ভারত। এবার মালদ্বীপ সরকারও ভারতের থেকে তেল চাইছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, মালদ্বীপ ভারতের কাছ থেকে জ্বালানি চাইছে। ভারত প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রতিনিয়ত জ্বালানি পাঠাচ্ছে। ভারত বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে জ্বালানি সরবরাহ করছে। মালদ্বীপ সরকারও স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমাদের কাছে কতটা তেল আছে, তা বুঝে নিয়ে মালদ্বীপের অনুরোধ নিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, মালদ্বীপ তাদের জ্বালানির অধিকাংশ পায় ওমানের থেকে। তবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের জেরে সেই রুটে তেল পরিবহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পর্যটনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল মালদ্বীপ এই পরিস্থিতির জেরে সংকটে পড়েছে। তাদের উড়ান পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে। এর প্রভাবে মালদ্বীপের অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে। তাই তারা ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছে জ্বালানি সরবরাহের জন্য।
এদিকে হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে ব্রিটেনে মিলিত হয় ৬০টিরও বেশি দেশ। তাতে ভারতের তরফ থেকে অংশ নিয়েছিলেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। এই আবহে বিদেশ মন্ত্রকের একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বিক্রম মিশ্রি সেই বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন যে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হল উত্তেজনা প্রশমিত করা। সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে কূটনীতি ও সংলাপের পথে ফিরে আসতে হবে।' উল্লেখ্য, ভারত উপসাগরীয় দেশগুলির পাশাপাশি রাশিয়ার থেকেও তেল কেনে। তাই দেশে তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। এদিকে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধনকারী দেশ। যদিও এলপিজির জন্য ভারত পুরোপুরি উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর নির্ভরশীল। তাই ভারতে এলপিজি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।