...
...
Next Story

Delhi Protest: রাহুলের 'কাপুরুষরা কংগ্রেস ছেড়েছে' মন্তব্যে খাড়গের কটাক্ষ 'সব তোমারই বন্ধু ছিল'

Delhi Protest: এদিনের বৈঠকে মল্লিকার্জুন খাড়গের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ের উদাহরণও টেনে রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেস সভাপতি জীবনে দু’বার মুখ্যমন্ত্রী পদ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও কখনও নিজের আদর্শের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করেননি।

Published on: Oct 16, 2026, 16:43:11 IST
Advertisement

Delhi Protest: তরুণ কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলোচনায় অতীতে দল ছেড়ে যাওয়া একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।

রাহুল গান্ধী 'কাপুরুষরা কংগ্রেস ছেড়েছে' মন্তব্যে মল্লিকার্জুন খাড়গের কটাক্ষ 'সব তোমারই বন্ধু ছিল' (AICC)
রাহুল গান্ধী 'কাপুরুষরা কংগ্রেস ছেড়েছে' মন্তব্যে মল্লিকার্জুন খাড়গের কটাক্ষ 'সব তোমারই বন্ধু ছিল' (AICC)

দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তরুণ যুব কংগ্রেস ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে এক চা-চক্রে মিলিত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে কথোপকথনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবি আজাদের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দলত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তরুণ ও লড়াকু যুবনেতাদের উদ্দেশে কংগ্রেস নেতা স্পষ্ট বলেন, 'কাপুরুষ ও লোভী' প্রকৃতির মানুষরা দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে কংগ্রেসে কেবল 'সিংহ' বা লড়াকু মানসিকতার নেতারাই অবশিষ্ট রয়েছেন।

একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের এক পর্যায়ে অত্যন্ত রসিকতার সুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক হালকা ছলে খোঁচা দিয়ে বলেন যে, অতীতে যে সমস্ত নেতারা দল ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মূলত রাহুলের ব্যক্তিগত 'বন্ধু' ছিলেন। মল্লিকার্জুন খাড়গের মুখে এই মন্তব্য শোনার পর কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই রাহুল উত্তর দেন, 'আমার বোন (প্রিয়াঙ্কা গান্ধী) এখানেই বসে রয়েছে। ও ভালভাবেই জানে যে উনি (জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া) কখনওই আমার বন্ধু ছিলেন না।' এরপর রাজনীতিতে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার সম্পর্ক নিয়ে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে জড়িত একটি পুরনো ঘটনা বর্ণনা করেন রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ তিনি মূলত তাঁর ঠাকুমার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। ছোটবেলায় একবার ইন্দিরা গান্ধীকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন যে তাঁর সবথেকে ভাল বন্ধু কে? জবাবে ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর কোনও 'বেস্ট ফ্রেন্ড' নেই। তখন রাহুল গান্ধী তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করা এক মহিলার নাম উল্লেখ করে জানতে চেয়েছিলেন যে তিনি কী তাঁর ভাল বন্ধু নন? এর উত্তরে ইন্দিরা গান্ধী অত্যন্ত কড়া ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা দিয়ে বলেছিলেন, 'না-হতে পারে আমি হয়তো তাঁর ভাল বন্ধু, কিন্তু তিনি আমার ভাল বন্ধু নন।' এই ঘটনা থেকে শিক্ষার উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতির দিকে তাকিয়ে মন্তব্য করেন যে, তিনি সম্পূর্ণভাবে একজন পেশাদার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে বাইরে থেকে যাঁকে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে মনে হতে পারে, তিনি আদতে প্রকৃত বন্ধু নাও হতে পারেন; আবার যাঁকে শত্রু মনে হয়, তিনি হয়তো দীর্ঘমেয়াদে শত্রু নন। তাই তাঁর প্রকৃত বন্ধুরা কারা, তা বাইরে থেকে কারও পক্ষে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বিক্ষোভ প্রদর্শনের নতুন ও সৃজনশীল উপায় খুঁজে বের করার জন্য তরুণ কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যন্তর মন্তরে ফের জমায়েত করার পরামর্শ দেন, যদিও সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকাকে প্রতিবাদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এদিনের বৈঠকে এক কর্মীর পায়ে প্লাস্টার দেখে রাহুল গান্ধী মজা করে বলেন যে ওই আঘাত আসলে তাঁর কাছে কোনও পদকের চেয়ে কম কিছু নয়। রাহুল গান্ধী এও দাবি করেন যে, বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকারের হাতে আর বড়জোর আট থেকে দশ মাস সময় বাকি আছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks