...
...
Next Story

'যা হওয়ার ছিল...,' বান্ধবীকে খুন করে মৃতদেহের সঙ্গে যৌনতা, নির্বিকার MBA ছাত্র

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তরুণীর হাত-পা বেঁধে তাঁর মুখে টেপ লাগিয়ে রেখেছিল পীযূষ ধামনোটিয়া, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপরে অভিযুক্ত তাঁকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

Published on: Feb 19, 2026, 15:51:21 IST
Advertisement

প্রেমিকাকে খুন করার পরে নগ্ন মৃতদেহের পাশে বসে বিয়ার খেয়েছিল। তারপর বিছানায় পড়ে থাকা প্রেমিকার মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সঙ্গমও করে। শেষে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ে গা ঢাকা দিতে। ইন্দোরে সহপাঠী তথা প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে এমবিএ ছাত্র পীযূষ ধামনোটিয়া। বুধবার পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন সাংবাদিকদের সামনেও আসে সে। তখন তার মুখ ছিল নির্বিকার। সে মুখ লুকানোর চেষ্টা করেনি। বরং মৃদু হাসছিল এবং শান্ত স্বরে কথা বলছিল।

নির্বিকার MBA ছাত্র (সৌজন্যে টুইটার)
নির্বিকার MBA ছাত্র (সৌজন্যে টুইটার)

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত পীযূষ ধামনোটিয়া বলেছে, 'যা হওয়ার ছিল, তা আগেই হয়ে গিয়েছে। ছেড়ে দিন। জেনে আপনারা কী করবেন?' তাঁর সংযোজন, 'সময় আসবে, আমি সবকিছু বলব।' বুধবার তদন্তকারীরা তাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ইন্দোরের দ্বারকাপুরীর ওই ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয়েছিল এমবিএ ছাত্রীর মৃতদেহ। দ্বারকাপুরী এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত পীযূষ। সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পীযূষের বান্ধবীর নগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই তরুণী। দেহ উদ্ধারের একদিন পরে পীযূষকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাকে ইন্দোরের স্থানীয় একটি থানার বাইরে থেকে একটি পুলিশ জিপে করে নিয়ে যাওয়ার সময়েই ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তরুণীর হাত-পা বেঁধে তাঁর মুখে টেপ লাগিয়ে রেখেছিল পীযূষ, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপরে অভিযুক্ত তাঁকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পরে অভিযুক্ত ঘরেই থেকে যায়, মৃতদেহের পাশে মদ্যপান করে। এমনকী, তরুণীর মৃত্যুর পরে অনলাইনে আত্মা নামানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সার্চ করে বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। দ্বারকাপুরী থানার এসএইচও মণীশ মিশ্র বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত যে সমস্ত তথ্য দিয়েছে, তাই যাচাই করতে ঘটনাস্থলে আসা। তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত যে তথ্য দিয়েছে,আমরা তা ঘটনাস্থলে এনে তা যাচাই করেছি। একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।'

ঘটনার সূত্রপাত

এক বিবৃতিতে পুলিশের কাছে ধমনোটিয়া দাবি করেছে যে, সে ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই তরুণী সম্প্রতি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিল। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেনি। ধমনোটিয়ার আরও দাবি, কোনও ডেটিং ওয়েবসাইটে অন্য ছেলের সঙ্গে কথাও বলছিল মেয়েটি। এই বিষয়টি নিয়েই ঘটনার দিন দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এরপর ওই তরুণীকে খুন করে অভিযুক্ত। খুনের পর, পীযূষ মুম্বই পালিয়ে যায়, পানভেলে হোটেলে থাকে। দিনভর মেট্রো স্টেশনে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ছাত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পুলিশ যখন পানভেলে পৌঁছয়, তখন তারা দেখে হোটেলের এক কোণে সে কালা জাদু করে ছাত্রীর আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। মনে করা হচ্ছে, ঘটনার পর থেকে ধমনোটিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং প্রেমিকার আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। তার জবানবন্দিতে, ধমনোটিয়া বলেছে যে তাঁর বান্ধবী একটি অ্যাপের মাধ্যমে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছিল, যার ফলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যার পরে, ধমনোটিয়া মদ্যপান করে এবং কিছুক্ষণ মৃতদেহের পাশে বসে থাকে। অভিযুক্ত আরও বলেছে যে, সে ওই অ্যাপার্টমেন্টেই মেয়েটির দেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe