...
...
Next Story

World most poisonous tree: বর্ষায় এই গাছের নীচে দাঁড়ালে চরম বিপদ অনিবার্য! তার ছায়ায় লুকিয়ে মৃত্যুর হাতছানি, কেন জানেন

বর্ষাকালে এই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত এই বিষবৃক্ষের ভয়াবহতার কথা অনেকেই জানেন না।

Published on: Sep 8, 2026, 10:16:38 IST
Advertisement

উদ্ভিদজগতে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধ করে, ঠিক তেমনই কিছু সৃষ্টি ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। এমনই এক বিষাক্ত ও ভয়ঙ্কর উদ্ভিদ হলো 'ম্যানচিনিল' (Manchineel Tree)। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে এই গাছটিকে "বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক গাছ" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্প্যানিশ ভাষায় এই গাছের নাম 'মানজানিল্লা দে লা মুয়ের্তে' (Manzanilla de la muerte), যার বাংলা অর্থ হলো—'মৃত্যুর ছোট আপেল'। দেখতে সাধারণ সবুজ গাছের মতো হলেও, এর পাতা, ছাল, ফল এমনকি আঠালো রস বা কষে ভরা থাকে তীব্র ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ।

বর্ষায় এই গাছের নীচে দাঁড়ালে চরম বিপদ অনিবার্য! কেন সেখানে মৃত্যুর হাতছানি
বর্ষায় এই গাছের নীচে দাঁড়ালে চরম বিপদ অনিবার্য! কেন সেখানে মৃত্যুর হাতছানি

ম্যানচিনিল গাছের সামনে লাল রঙে সতর্কবার্তা বা ক্রসবোন চিহ্ন লিখে রাখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ বা পর্যটকেরা ভুলবশত এর কাছে না যান। কিন্তু বর্ষাকালে এই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত এই বিষবৃক্ষের ভয়াবহতা, বর্ষায় বিপদের কারণ এবং এর ঐতিহাসিক উপকথা জেনে নিন।

বর্ষাকালে ম্যানচিনিল গাছের নিচে দাঁড়ালে চরম বিপদের কারণ

বর্ষাকালে বা বৃষ্টির দিনে সাধারণ মানুষ যেখানে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন, ম্যানচিনিলের ক্ষেত্রে সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়:

  • বিষাক্ত তরলের মারাত্মক বৃষ্টি: ম্যানচিনিল গাছের পাতার রস এবং কষে 'ফোর্বল' (Phorbol) নামক এক অত্যন্ত তীব্র ও জলে দ্রবণীয় জৈব বিষ থাকে। বৃষ্টির জল যখন এই গাছের পাতা ও ডালপালা ছুয়ে নিচে পড়ে, তখন বৃষ্টির জলের সাথে এই বিষ মিশে যায়।
  • চামড়া ঝলসে যাওয়া ও তীব্র ফোসকা: বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যাওয়া বিষের ফোঁটা মানবত্বকে পড়া মাত্রই রাসায়নিক ক্ষতের (Chemical Burn) সৃষ্টি করে। ত্বক তীব্রভাবে জ্বলে গিয়ে বড় বড় ফোস্কা বা ক্ষত তৈরি হয়।
  • দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি: এই বিষাক্ত মিশ্রিত বৃষ্টির জল যদি কোনোভাবে মানুষের চোখে পড়ে, তবে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থায়ীভাবে অন্ধত্ব বরণ করতে পারেন।

ম্যানচিনিল গাছের স্পর্শ ও ফলের ক্ষতিকর প্রভাব

ম্যানচিনিল গাছ মূলত বিষুবরেখা ও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী নোনা বা কর্দমাক্ত মাটিতে বেশি জন্মে। এই গাছ পরিবেশের উপকূলীয় ক্ষয়রোধে প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।

  • ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ: বার্বাডোস, জামাইকা, বাহামা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের মতো সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় এটি প্রচুর দেখা যায়।
  • উত্তর ও মধ্য আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের এভারগ্লেডস অঞ্চল, মেক্সিকোর উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলে প্রচুর ম্যানচিনিল গাছ চোখে পড়ে।

স্থানীয় উপকথা ও ইতিহাস

ম্যানচিনিল গাছকে কেন্দ্র করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু রহস্যময় ইতিহাস ও উপকথা প্রচলিত রয়েছে:

  • আদিবাসীদের বিষাক্ত তীর: ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের প্রাচীন আদিবাসীরা তাদের শিকার ও যুদ্ধের তীরের মাথায় ম্যানচিনিলের কষ মাখিয়ে নিত। এই তীরের সামান্য আঘাতেই শত্রুর নিশ্চিত মৃত্যু হতো।
  • পনস দে লিওনের পরিণতি: বিখ্যাত স্প্যানিশ অভিযাত্রী জুয়ান পনস দে লিওন (Juan Ponce de León) ১৫২১ সালে ফ্লোরিডায় ক্যারিব আদিবাসীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। আদিবাসীদের ম্যানচিনিল বিষে মাখানো তীরের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়ে পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
  • জীবন্ত গাছে বেঁধে রাখার শাস্তি: স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, প্রাচীনকালে মেক্সিকো ও ক্যারিবীয় আদিবাসীরা বন্দিদের বা অপরাধীদের সমুদ্রের চরে থাকা ম্যানচিনিল গাছের কাণ্ডে বেঁধে রাখত। বৃষ্টি হলে গাছের বিষাক্ত রসে ছাল উঠে ধুঁকে ধুঁকে বন্দির করুণ মৃত্যু ঘটত।

প্রকৃতি যেমন জীবনের জন্ম দেয়, তেমনই কিছু সৃষ্টিতে লুকিয়ে রাখে মারাত্মক ধ্বংসের বীজ। ম্যানচিনিল গাছ সেই রহস্যময় প্রকৃতিরই এক ভয়াল নিদর্শন। উপকূল রক্ষা ও বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে এই গাছ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সাধারণ মানুষের জন্য এটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিশেষ করে বর্ষায় এর ছায়া এড়িয়ে চলাই জীবন রক্ষার একমাত্র পথ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe