Mango capital of the world: গ্রীষ্মকাল এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আলফনসো বা আম্রপালি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তবে আম উৎপাদনের প্রাচুর্য, গুণমান এবং ঐতিহাসিক স্বীকৃতির কারণে ফিলিপাইনের গুইমারাস (Guimaras) শহরকে বিশ্বজুড়ে ‘আমের রাজধানী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এখানকার আম এতটাই মিষ্টি ও সুস্বাদু যে, তা বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলগুলোর ডাইনিং টেবিল থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউস বা বাকিংহাম প্যালেসের রাজকীয় ভোজসভাতেও পরিবেশন করা হয়েছে।
গুইমারাসের আমের অনন্য বৈশিষ্ট্য

গুইমারাস দ্বীপের মাটি, আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থান আম চাষের জন্য একদম নিখুঁত। এখানকার প্রধান আমের প্রজাতি হলো 'কারাবাও আম' (Carabao Mango), যা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness Book of World Records)-এ পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি আম হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। এই আমগুলো সম্পূর্ণ আঁশবিহীন এবং এর সুগন্ধ এতটাই তীব্র যে দূর থেকেই এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
আমের রাজধানী হয়ে ওঠার ইতিহাস
গুইমারাসের আম চাষের ইতিহাস বেশ পুরনো হলেও, একে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করে তোলার পেছনে রয়েছে এক কঠোর আইনি এবং বৈজ্ঞানিক লড়াই।
১. কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন (The Quarantine Law): গুইমারাস দ্বীপের আমকে ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ (বিশেষ করে ম্যাঙ্গো পাল্প উইভিল) থেকে রক্ষা করতে ১৯৭০-এর দশকে একটি কঠোর নিয়ম জারি করা হয়। এই দ্বীপে বাইরের কোনো অঞ্চল থেকে অন্য কোনো জাতের আম বা আম গাছ নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি পর্যটকরাও এই দ্বীপে বাইরে থেকে কোনো আম নিয়ে ঢুকতে পারেন না। এই কঠোর সুরক্ষার কারণে এখানকার আম গাছের জিনগত বিশুদ্ধতা শতভাগ বজায় রয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও রপ্তানি: এই দ্বীপের আম এতটাই রোগমুক্ত এবং নিখুঁত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের মতো কড়া কোয়ারেন্টাইন নিয়ম থাকা দেশগুলোও গুইমারাসের আম আমদানিতে কোনো বাধা দেয় না। ১৯৯0-এর দশকে গুইমারাস যখন বাণিজ্যিকভাবে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, তখন থেকেই এটি বিশ্বজুড়ে 'আমের রাজধানী' হিসেবে ব্র্যান্ডিং পায়।
ম্যাঙ্গো ফেস্টিভ্যাল বা ‘মাঙ্গাহান উৎসব’
{{/usCountry}}২. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও রপ্তানি: এই দ্বীপের আম এতটাই রোগমুক্ত এবং নিখুঁত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের মতো কড়া কোয়ারেন্টাইন নিয়ম থাকা দেশগুলোও গুইমারাসের আম আমদানিতে কোনো বাধা দেয় না। ১৯৯0-এর দশকে গুইমারাস যখন বাণিজ্যিকভাবে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, তখন থেকেই এটি বিশ্বজুড়ে 'আমের রাজধানী' হিসেবে ব্র্যান্ডিং পায়।
ম্যাঙ্গো ফেস্টিভ্যাল বা ‘মাঙ্গাহান উৎসব’
{{/usCountry}}গুইমারাসের সংস্কৃতির সাথে আম ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রতি বছর মে মাসে এখানে ‘মাঙ্গাহান ফেস্টিভ্যাল’ (Manggahan Festival) বা আম উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘অল-ইউ-ক্যান-ইট’ (All-You-Can-Eat) প্রতিযোগিতা, যেখানে নামমাত্র মূল্যে পর্যটকরা যত খুশি ইচ্ছে মিষ্টি আম খেতে পারেন। পুরো শহরকে এই সময়ে আমের থিমে সাজানো হয় এবং আম দিয়ে তৈরি হরেক রকমের কেক, পিৎজা, জুস ও সুভ্যেনির বিক্রি হয়।
মালদা বা রত্নাগিরির আম আমাদের কাছে প্রিয় হলেও, বিশ্বমঞ্চে কঠোর আইনি সুরক্ষা এবং গিনেস রেকর্ডের কারণে ফিলিপাইনের গুইমারাস নিজের নামের পাশে ‘আমের রাজধানী’ তকমাটি চিরস্থায়ী করে নিয়েছে। প্রকৃতির দান আর মানুষের সচেতন প্রয়াস কীভাবে একটি ছোট দ্বীপকে বিশ্বসেরা করে তুলতে পারে, গুইমারাসের ইতিহাস তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।