মণিপুরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য মিলেছে। পাহাড় ও উপত্যকা—দুই অঞ্চলেই পৃথক অভিযানে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং একটি ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে, চলতি মাসে অসম রাইফেলসের কনভয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার উখরুল জেলার সিকিবুং গ্রামের চার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানটি অসম রাইফেলসের কনভয়ের উপর হওয়া হামলার (গত ৬ জুলাই) তদন্তের অংশ হিসেবে চালানো হয়। ওই হামলায় দুই অসম রাইফেলস জওয়ান নিহত হন এবং ঘটনাটি রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
৬ জুলাই উখরুল জেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে নুংশাং খং এলাকার কাছে শাংশাকে অসম রাইফেলসের একটি কনভয়ের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। হামলায় দুই জওয়ান প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং এর আগে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে দুটি সিঙ্গল ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (SBBL) বন্দুক, বেশ কয়েকটি জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ওয়্যারলেস যোগাযোগ যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী হামলার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
অন্যদিকে, বুধবার ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই আহোংগেই এলাকায় পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি-এমসি (প্রগ্রেসিভ)-এর এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি, তবে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, বুধবার ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই আহোংগেই এলাকায় পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি-এমসি (প্রগ্রেসিভ)-এর এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি, তবে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}একই দিনে ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই লায়রিকিয়েংবাম এলাকা থেকে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১১ রাউন্ড জীবন্ত গুলি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশের দাবি, মণিপুরে এখনও নিয়মিতভাবে তল্লাশি অভিযান এবং এলাকা দখল কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে জঙ্গি কার্যকলাপ, অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই মণিপুরে অশান্তি অব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছরে এই হিংসায় ২৬০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অসম রাইফেলস এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারিগুলি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে মণিপুরে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিরাপত্তা অভিযান নয়, রাজনৈতিক সংলাপ, সম্প্রদায়ভিত্তিক আস্থা পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।