মণিপুরে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব এবং কাংপোকপি জেলার সীমানা লাগোয়া এলাকায় হামলায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তাঁদের উদ্ধার করে ইম্ফলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নোংশুমের খংবল থাংখুল এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে, হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন করে অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা

ইন্ডিয়া টুডে এনই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ হামলার ঘটনাটি ঘটে। কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের উপর হামলা চালায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। গুলিবিদ্ধ হন আরও তিন জন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ইম্ফলের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিরাপত্তা বাহিনী। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের পরিচয় জানা যায়নি। কোনও সংগঠনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রতিবাদে পথে স্থানীয় বাসিন্দারা
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় জড়ো হয়ে তাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ জানান। সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের মতো দৈনন্দিন কাজেও যদি হামলার আশঙ্কা থাকে, তা হলে কী ভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব, সেই প্রশ্নও উঠছে।
ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার মধ্যবর্তী এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই জেলার সীমানা লাগোয়া পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবারের হামলার পর ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনও জাতিগত সংঘর্ষ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করছে না প্রশাসন।
২০২৩ সাল থেকে অশান্তির ছায়া
{{/usCountry}}ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার মধ্যবর্তী এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই জেলার সীমানা লাগোয়া পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবারের হামলার পর ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনও জাতিগত সংঘর্ষ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করছে না প্রশাসন।
২০২৩ সাল থেকে অশান্তির ছায়া
{{/usCountry}}২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও রাজ্যের পাহাড়ি জেলাগুলিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার খবর সামনে এসেছে।
অক্টোবরের শুরুতে কাংপোকপি, কামজং এবং উখরুল জেলায় নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ন’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারের হামলা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের চিহ্নিত করা এবং এলাকায় আরও হিংসা ছড়ানো আটকানোই এখন প্রশাসনের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। তদন্তের অগ্রগতি এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।