রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এ বার সরাসরি গিয়ে পড়ল ভারতীয় ব্যবসায়িক স্বার্থে। ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় মালিকানাধীন কুসুম গোষ্ঠীর একটি ওষুধ তৈরির কারখানা রুশ ড্রোন হামলায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারখানার মূল ভবনের বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ঘটনায় অন্তত এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে আহত এবং নিহতের সংখ্যা পরে আরও বদলাতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসা ছবিতে কারখানা চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। একের পর এক ড্রোন হামলায় শিল্প এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। কুসুম গোষ্ঠীর সুমি কারখানাটিই এই হামলার অন্যতম প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা।
কুসুম গোষ্ঠী মূলত ভারতীয় শিকড়ের একটি ওষুধ সংস্থা। ১৯৯৪ সালে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রফতানির মাধ্যমে তাদের ব্যবসার শুরু। পরে ধাপে ধাপে নিজেদের পণ্য বাজারজাত করা এবং ওষুধ উৎপাদনের দিকে এগোয় সংস্থাটি। ২০০৭ সালে ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে কারখানা চালু করে তারা। বর্তমানে সংস্থাটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজীব গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
সংস্থার তৈরি ওষুধের বেশির ভাগই জেনেরিক। ৫০টিরও বেশি পণ্য তৈরি করে কুসুম গোষ্ঠী। শুধু ইউক্রেন নয়, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং ফিলিপিন্স-সহ একাধিক দেশেও তাদের ওষুধ বিক্রি হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সুমির কারখানাটি দীর্ঘ সময় উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেই পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই কারখানায় হামলা চালানো হল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাল্টা হামলা চলছে। সেই সংঘাতের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া দ্রুতগতির জেট চালিত শাহেদ ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই ড্রোনগুলির গতি আগের মডেলের তুলনায় বেশি হওয়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেগুলিকে ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
{{/usCountry}}কেন এই কারখানায় হামলা চালানো হল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাল্টা হামলা চলছে। সেই সংঘাতের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া দ্রুতগতির জেট চালিত শাহেদ ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই ড্রোনগুলির গতি আগের মডেলের তুলনায় বেশি হওয়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেগুলিকে ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
{{/usCountry}}গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলার সংখ্যা বেড়েছে। শিল্প কারখানা, জ্বালানি ব্যবস্থা এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাতেও হামলার খবর মিলছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব যে কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, কুসুম গোষ্ঠীর কারখানায় হামলার ঘটনা তারই আর একটি উদাহরণ।
এই ঘটনায় ভারতীয় সংস্থার পরিকাঠামোর পাশাপাশি ইউক্রেনের ওষুধ সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুমির কারখানা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাজারে ওষুধ সরবরাহ করত। উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কিছু পণ্যের জোগানে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এবার আরও এক ধাক্কায় ভারতের ব্যবসায়িক স্বার্থে এসে পড়ল। যুদ্ধের মধ্যে বছরের পর বছর কাজ চালিয়ে আসা কুসুম গোষ্ঠীর সুমি কারখানা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির অঙ্ক যেমন বড়, তেমনই ভবিষ্যতে সেখানে উৎপাদন কবে শুরু করা সম্ভব হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।