Hawala Mastermind Arrested: উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক বড় অভিযানে গ্রেফতার করা হল ১৪৬ কোটি টাকার হাওয়ালা কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড মহফুজ আলি ওরফে পাপ্পু ছুরিকে। গত বুধবার রাতে কানপুর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের পায়ের রক্ত মাথায় ফেলে উপার্জন করা কোটি কোটি টাকা দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে লেনদেন চালাত অভিযুক্ত। তার নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি, এবং উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মহফুজকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ।
কীভাবে কাজ করত এই চক্র?

কানপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ছিল মহফুজের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, আসলে মহফুজের কাজের ধরন ছিল বেশ সুসংগঠিত। অভিযুক্ত জালিয়াতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক চালাত। বিভিন্ন নামে জাল কোম্পানি খুলে জিএসটি রিটার্ন জমা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়ে আত্মসাৎ করত। এই টাকা হাওলা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পেরেছে যে, সে মূলত গরিব রিকশাচালক এবং ঠেলাওয়ালাদের টার্গেট করত। লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে আধার কার্ড এবং প্যান কার্ডের মতো জরুরি নথি হাতিয়ে নিত। তারপর ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই নথি ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হত। আর সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকেই চলত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কানপুরে ২৪ লক্ষ টাকা লুটের একটি ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই বিশাল হাওয়ালা নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়েছিল। এই ঘটনায় এর আগে বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু মূল চক্রী মহফুজ পলাতক ছিল। অবশেষে কানপুর পুলিশের ঘেরাটপে পড়ে সে। এই কেলেঙ্কারিতে ৩২০০ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব মিলেছে, যার মধ্যে ১৪৬ কোটি টাকার সরাসরি প্রতারণা হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। মহফুজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর টাকা ঢুকত। পরে সেই টাকা বিদেশেও পাচার হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যে এই মামলায় তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র জানিয়েছে, এই প্রতারণার সঙ্গে হাওলা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের যোগসূত্র থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্ক হয়েছে।
{{/usCountry}}গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কানপুরে ২৪ লক্ষ টাকা লুটের একটি ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই বিশাল হাওয়ালা নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়েছিল। এই ঘটনায় এর আগে বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু মূল চক্রী মহফুজ পলাতক ছিল। অবশেষে কানপুর পুলিশের ঘেরাটপে পড়ে সে। এই কেলেঙ্কারিতে ৩২০০ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব মিলেছে, যার মধ্যে ১৪৬ কোটি টাকার সরাসরি প্রতারণা হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। মহফুজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর টাকা ঢুকত। পরে সেই টাকা বিদেশেও পাচার হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যে এই মামলায় তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র জানিয়েছে, এই প্রতারণার সঙ্গে হাওলা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের যোগসূত্র থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্ক হয়েছে।
{{/usCountry}}কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, 'লেনদেন এবং সুবিধাভোগীদের যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির একটি ডাকাতির ঘটনায় অবৈধ নগদ লেনদেনের সঙ্গে যোগসূত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণামূলকভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, ভুয়ো জিএসটি নিবন্ধন করা হয়েছিল এবং ৬৮টি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রটি পাঞ্জাব, হিমাচল, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত। জিএসটি এবং আয়কর কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। একাধিক ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে।'