বায়োলজিক্যাল সন্তান আর দত্তক নেওয়া সন্তানের মধ্যে আইনের চোখে কোনও ভেদাভেদ নেই। মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক রায়ে এই বার্তাই দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, তিন মাসের বেশি বয়সি শিশুকে দত্তক নিলেও মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত হবেন না। আদালত জানিয়েছে, মাতৃত্বের সুরক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং রক্ত সম্পর্কের বাইরেও পরিবার গঠনের যে আইনি পথ রয়েছে, তা সমান মর্যাদার দাবিদার।

এদিন শীর্ষ আদালত সামাজিক সুরক্ষা সংহিতার একটি বিশেষ ধারা ৬০ (৪)-কে ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করে দিয়েছে। সেখানে বলা ছিল, তিন মাসের কম বয়সি সন্তান দত্তক নিলেই মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রাপ্য। সন্তানকে হাতে পাওয়ার পর থেকে ১২ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বরাদ্দ করা ছিল সেক্ষেত্রে। ওই বিধিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিট পিটিশন জমা পড়ে আদালতে। সেই নিয়ে শুনানিতে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, 'পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে জীববিদ্যাকে বরাবর প্রাধান্য দেওয়া হলেও, সন্তান দত্তক নেওয়াও সমানভাবে বৈধ। এক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র জীববিজ্ঞানের উপদানগুলিই পরিবার নির্ধারণ করে না। মায়ের দ্বারা প্রসব করা সন্তানের চেয়ে কোনও ভাবেই আলাদা নয় দত্তক সন্তান।'
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, তিন মাসের বেশি বয়সি সন্তান দত্তক নিলে মায়ের দায়িত্ব কোনও ভাবেই কমে যায় না। অন্য মায়ের মতো তাঁকেও সন্তানের দেখভাল করতে হয়। তাই তাঁকে মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত করার অর্থ তাঁর আবেগ, তাঁর অনুভূতিকে উপেক্ষা করা। এখন থেকে দত্তক নেওয়া শিশুর বয়স যা-ই হোক না কেন, মা ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। সাধারণ ক্ষেত্রে মায়েরা ২৬ সপ্তাহের সবেতন ছুটি পান। এরমধ্যে প্রসব-পরবর্তী পর্যায়ের ১২ সপ্তাহের যে সুবিধা, এখন থেকে সব দত্তক নেওয়া মায়েরাও সেই সমপরিমাণ ছুটি পাবেন। পাশাপাশি, সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পিতৃত্বকালীন ছুটি চালুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আর্জি জানিয়েছে আদালত। বর্তমানে সরকারি কর্মীরা ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে এর কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই। বেসরকারি সংস্থায় এই ছুটি মিলবে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মর্জির ওপর নির্ভর করে। আদালতের এই রায় মূলত সেই সব মহিলাদের স্বস্তি দিল, যাঁরা সামাজিক বা ব্যক্তিগত কারণে সন্তান দত্তক নিয়ে পরিবার বড় করতে চান।