দীর্ঘ কয়েক মাসের আইনি জটিলতার পর আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে নিজেদের দেশে ফেরার অনুমতি দিল দিল্লির আদালত। বৃহস্পতিবার রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মা তাঁদের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউক্রেনে ফিরে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশ এল এমন সময়ে, যখন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ এই সাত জনের বিরুদ্ধে মূলত অভিবাসন সংক্রান্ত ধারায় চার্জশিট জমা দিয়েছে।

মার্চে এই সাত জনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, ওই বিদেশিরা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল হয়ে মায়ানমারে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন তৈরি এবং জ্যামিং প্রযুক্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এনআইএ-র দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বৈধ নথি নিয়ে ভারতে ঢোকার পর তাঁরা গুয়াহাটি ও মিজোরাম হয়ে এমন এলাকায় যান, যেখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এর পর অনুমোদনহীন পথ দিয়ে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত পার হয়ে ভিক্টোরিয়া ক্যাম্পে পৌঁছনোর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে তাঁরা আবার ভারতে ফিরে আসেন বলে চার্জশিটে দাবি করেছে এনআইএ।
তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে চার্জশিটে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ৮ সেপ্টেম্বর এনআইএ সাত জনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ এবং ২৩ নম্বর ধারায় মামলা চালানোর কথা জানায়। অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ রাখা হয়। কিন্তু ইউএপিএ-র আওতায় যে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তা সেই চার্জশিটে রাখা হয়নি। এনআইএ অবশ্য জানিয়েছে, ইউএপিএ সংক্রান্ত তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতেই আদালত ভ্যানডাইককে ডিফল্ট জামিন দেয়। পরে একই সুবিধা পান ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকও। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্তকারী সংস্থা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না করে, তবে অসম্পূর্ণ চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তদের ডিফল্ট জামিনের অধিকার আটকে রাখা যায় না। এনআইএ-কে মোট ১৮০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতেই আদালত ভ্যানডাইককে ডিফল্ট জামিন দেয়। পরে একই সুবিধা পান ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকও। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্তকারী সংস্থা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না করে, তবে অসম্পূর্ণ চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তদের ডিফল্ট জামিনের অধিকার আটকে রাখা যায় না। এনআইএ-কে মোট ১৮০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য।
{{/usCountry}}আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার আগে সাত জনকে তাঁদের থাকার জায়গার তথ্য এবং একজন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য এনআইএ-কে জানাতে হবে। ভ্রমণের যাবতীয় ব্যবস্থা করার জন্য তাঁদের হাতে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ছয় ইউক্রেনীয়কে ইতিমধ্যেই অভিবাসন সংক্রান্ত মামলা থেকে নিষ্পত্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে ৫.৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও জমা হয়েছে।
এই মুহূর্তে তাই ভ্যানডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় ভারতে আটকে থাকার বাধা থেকে মুক্ত। তবে তাঁদের নিয়ে ইউএপিএ সংক্রান্ত তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি। এনআইএ জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও সরঞ্জাম, ডিজিটাল তথ্য এবং তাঁদের কথিত সফরের সঙ্গে যুক্ত নানা বিষয় এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে দেশে ফিরতে পারলেও এই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।