প্যালেস্টাইন সফরে গিয়ে গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন। সফরের সময় তিনি প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রী ডঃ ভার্সেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় গাজার পরিস্থিতি, প্যালেস্টাইনের মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বর্তমানে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কনস্যুলার, পাসপোর্ট, ভিসা এবং ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সচিব। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি গাজার মানুষের দুর্দশা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানান। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্যালেস্টাইনের মানুষের পাশে থাকার কথা বলে আসছে। নয়াদিল্লির নীতিতে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি প্যালেস্টাইনের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা করে আসছে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রাসেলসে প্যালেস্টাইন ডোনার গ্রুপের দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। সেখানে শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন জানিয়েছিলেন, প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন—দুই রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতিও ভারত সমর্থন জানিয়েছে। দিল্লির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন মেনে একটি কার্যকর দুই-রাষ্ট্র সমাধানের মধ্য দিয়েই ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। প্যালেস্টাইনের উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত। স্বাস্থ্য পরিষেবা, নারী ক্ষমতায়ন, প্রতিষ্ঠান গঠন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
{{/usCountry}}প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতিও ভারত সমর্থন জানিয়েছে। দিল্লির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন মেনে একটি কার্যকর দুই-রাষ্ট্র সমাধানের মধ্য দিয়েই ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। প্যালেস্টাইনের উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত। স্বাস্থ্য পরিষেবা, নারী ক্ষমতায়ন, প্রতিষ্ঠান গঠন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
{{/usCountry}}মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। প্যালেস্টাইনের মানুষের জন্য সাহায্যের পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্যালেস্টাইন শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কে সমর্থন করে আসছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কাজকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও ভারত জানিয়েছে।
বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় কূটনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে সাধারণ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছনোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন দেশ।
শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথনের প্যালেস্টাইন সফর তাই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক ও মানবিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। ভারতের অবস্থান অবশ্য আগেও স্পষ্ট ছিল। এক দিকে প্যালেস্টাইনের মানুষের জন্য মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তা। অন্য দিকে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন। একই সঙ্গে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্যপদের দাবির পাশে থাকা। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলিতেও সেই অবস্থানই পুনরায় তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
ফলে প্যালেস্টাইন সফরে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথনের উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের দীর্ঘদিনের পশ্চিম এশিয়া নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। গাজায় পরিস্থিতি যতদিন স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততদিন মানবিক সহায়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।