ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার ও মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মন্তব্যকে ঘিরে ফের তীব্র কূটনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। জারদারির বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) একে ‘অযাচিত’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই। তাঁর কথায়, 'ভারত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার তাঁর নেই।'
বিতর্কের সূত্রপাত বারাণসীর ঐতিহাসিক গঞ্জ শহিদা মসজিদকে ঘিরে। কাশী রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ মসজিদ চত্বরে থাকা দখলদারদের স্থান খালি করার নোটিস দেয়। এরপরই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেন, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলির অস্তিত্ব বিপদের মুখে। তিনি ভারত সরকারকে অবিলম্বে এই ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার দাবি তোলেন।
তবে জারদারির এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক পাল্টা জানিয়েছে, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের প্রশ্নে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের ইতিহাস আন্তর্জাতিক মহলেও সুপরিচিত। সেই প্রেক্ষিতে জারদারির বক্তব্যকে 'বিশেষভাবে হাস্যকর' বলে উল্লেখ করেছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রক আরও দাবি করেছে, এই মন্তব্য কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। রণধীর জয়সওয়ালের ভাষায়, জারদারির বক্তব্যকে “বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত পাকিস্তানের নীতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক আক্রমণ” বলেই দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সন্ত্রাস, কাশ্মীর এবং সংখ্যালঘু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। জারদারির সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং তার জবাবে ভারতের কঠোর অবস্থান সেই উত্তেজনাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।
{{/usCountry}}বিদেশ মন্ত্রক আরও দাবি করেছে, এই মন্তব্য কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। রণধীর জয়সওয়ালের ভাষায়, জারদারির বক্তব্যকে “বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত পাকিস্তানের নীতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক আক্রমণ” বলেই দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সন্ত্রাস, কাশ্মীর এবং সংখ্যালঘু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। জারদারির সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং তার জবাবে ভারতের কঠোর অবস্থান সেই উত্তেজনাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।
{{/usCountry}}