বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশের পর নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরতে চান এবং দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও প্রস্তুত। এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত যে কোনও বিষয় আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যদি প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনও আবেদন জানায়, তবে তা সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিচার করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'আমাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয় এবং তা সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনেই নিষ্পত্তি করা হবে।'
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন এবং তখন থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এর আগেও একাধিকবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে। চলতি বছর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে এসে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন। যদিও ভারত সেই সময়ও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় দেখার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়াও একাধিক মামলায় তাঁকে দীর্ঘ কারাদণ্ডের সাজাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের বক্তব্য, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
{{/usCountry}}এদিকে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়াও একাধিক মামলায় তাঁকে দীর্ঘ কারাদণ্ডের সাজাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের বক্তব্য, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি যেকোনও পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায় এবং সে জন্য বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু তার প্রয়োজন নেই, আমি নিজেই দেশে ফিরে যাব।”
শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান। তাঁর কথায়, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের উপর দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আমার ভাগ্যে লেখা থাকে, তবে আমি চাই নিজের দেশের মাটিতেই মৃত্যু হোক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন।”
শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ীই ভবিষ্যতের পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। ফলে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন এখন সম্পূর্ণভাবে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে।