MEA to US Congressman on FCRA: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা FCRA-তে প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার জবাব দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, FCRA-র সংশোধন ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন প্রণয়নের বিষয় এবং এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ভারতীয় সংসদের। একই সঙ্গে বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা-সহ একাধিক দেশেই আইন রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।
FCRA-র প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলেরই কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে খ্রিস্টান সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য নাগরিক সমাজের সংগঠন বিদেশি অনুদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, ভারতের আইন সংক্রান্ত বিষয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় সংসদের। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকা-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এই ইস্যুতে সবচেয়ে সরব হয়েছেন সেনেটের বিদেশ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জেমস রিশ। প্রস্তাবিত FCRA সংশোধনীকে তিনি ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে আমেরিকা তা নিয়ে সরব হতে পিছপা হবে না।
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুরও সমাজমাধ্যমে FCRA সংশোধনীর সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে সরকার গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তিনি এটিকে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই অবস্থায় বিলটি এগিয়ে গেলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তা গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
{{/usCountry}}রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুরও সমাজমাধ্যমে FCRA সংশোধনীর সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে সরকার গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তিনি এটিকে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই অবস্থায় বিলটি এগিয়ে গেলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তা গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
{{/usCountry}}এদিকে, ‘Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026’ ইতিমধ্যেই লোকসভায় পেশ হয়েছে। যদিও এখনও বিলটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়নি। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও প্রতিষ্ঠানের FCRA লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান এবং সম্পত্তি ‘সাময়িকভাবে’ সরকারের নির্ধারিত একটি ‘Designated Authority’-র কাছে চলে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে ওই অর্থ ও সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে। পরবর্তীতে তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাবিত বিধান নিয়েই মূলত বিভিন্ন ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খ্রিস্টান-অধ্যুষিত মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা এবং Catholic Bishops’ Conference of India (CBCI)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে FCRA সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবিত আইন কোনও ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী কার্যকলাপ বা সম্পত্তির উপর ‘রেট্রোস্পেকটিভ’ বা পশ্চাৎমুখীভাবে প্রয়োগ করা হবে না।
CBCI অবশ্য এখনও সতর্ক। তাদের বক্তব্য, সংশোধনীর ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে আসা দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলি সমস্যায় পড়তে পারে। তাই সংগঠনটি বিদ্যমান আইনি অধিকার, বৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি এবং চলমান জনকল্যাণমূলক কাজ যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে FCRA সংশোধনী এখন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় নয়, ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কেও তা আলোচনার জায়গা করে নিয়েছে। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—ভারতের আইন কীভাবে সংশোধিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সংসদই নেবে।