...
...
Next Story

জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে অশোক চক্র! তার ভিতরের ২৪টি শলাকার প্রতিটির আলাদা অর্থ আছে, জানেন কি

আপনি কি জানেন, এই ২৪টি শলাকা বা অর কেবল সুন্দর নকশার জন্য দেওয়া হয়নি? প্রতিটি অরের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর মানবধর্ম, নৈতিক মূল্যবোধ এবং প্রগতির বার্তা।

Published on: Aug 14, 2026, 21:13:35 IST
Advertisement

ভারতের জাতীয় পতাকার ঠিক মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের যে চাকা বা চক্রটি শোভা পায়, তা হলো ‘অশোক চক্র’ (Ashoka Chakra)। তেরঙ্গার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের পাশাপাশি এই অশোক চক্র আমাদের জাতীয় পতাকার প্রাণকেন্দ্র। মৌর্য সম্রাট অশোকের নির্মিত সারনাথের সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভশীর্ষ (Lion Capital of Ashore) থেকে এই চক্রটি গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা চূড়ান্ত করার সময় এতে ২৪টি অর বা স্পোক (Spokes) বিশিষ্ট অশোক চক্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে অশোক চক্র! তার ভিতরের ২৪টি শলাকার প্রতিটির আলাদা অর্থ আছে, জানেন কি
জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে অশোক চক্র! তার ভিতরের ২৪টি শলাকার প্রতিটির আলাদা অর্থ আছে, জানেন কি

কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ২৪টি শলাকা বা অর কেবল সুন্দর নকশার জন্য দেওয়া হয়নি? প্রতিটি অরের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর মানবধর্ম, নৈতিক মূল্যবোধ এবং প্রগতির বার্তা। সনাতন ও বৌদ্ধ দর্শন অনুযায়ী, এই ২৪টি শলাকা বা অর দিনের ২৪ ঘণ্টার প্রতীক, যা নির্দেশ করে—ভারত একটি গতিশীল ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র, যা কখনো থেমে থাকে না। অশোক চক্রের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং এর ২৪টি শলাকার বিশদ অর্থ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. অশোক চক্রের ঐতিহাসিক ও অলৌকিক তাৎপর্য

অশোক চক্রকে জ্যোতিষ ও দর্শনশাস্ত্রে ‘ধর্মচক্র’ (Dharma Chakra) বলা হয়ে থাকে। সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর হিংসা ত্যাগ করে অহিংসা ও বুদ্ধের ধম্ম নীতি গ্রহণ করেন। তিনি পুরো দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এই চক্র নির্মাণ করিয়েছিলেন।

  • নীল রঙের অর্থ: অশোক চক্রের গাঢ় নীল রঙ অসীম আকাশ এবং অতল সমুদ্রের প্রতীক, যা বোঝায় ভারতের উদারতা, শান্তি ও সার্বভৌমিকতা।
  • গতির প্রতীক: চক্র বা চাকার মূল স্বভাব হলো ঘোরা বা গতিশীল থাকা। ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন পতাকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন—"চক্রটি গতির প্রতিনিধিত্ব করে। স্থবিরতায় মৃত্যু আসে, গতিতেই রয়েছে জীবন।"

২. অশোক চক্রের ২৪টি অরের গভীর নীতিশিক্ষা ও অর্থ

এই ২৪টি অর এক দিনে থাকা ২৪ ঘণ্টার নির্দেশক। এটি আমাদের বার্তা দেয় যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত দিনের ২৪ ঘণ্টাই সত্য, ন্যায় ও উন্নয়নের পথে হাঁটা। ভারত এক জায়গায় থেমে থাকার রাষ্ট্র নয়; বরং ন্যায় ও ধর্মের এই চাকা দিন-রাত অবিরাম ঘুরে দেশকে বিশ্বমঞ্চে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভারতের জাতীয় পতাকার অশোক চক্র কেবল ইতিহাসের এক প্রাচীন প্রতীক নয়; এটি একটি চিরন্তন জীবনদর্শন। এই ২৪টি অরের নীতি মেনে চলতে পারলে এক শক্তিশালী, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe