...
...
Next Story

Meta on child abuse content: শিশু সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত Meta-র, আপত্তিকর তথ্য পুলিশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ভারতে কাজ করা যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক দায়িত্ব। এই বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। সরকার Meta-র সিদ্ধান্তকে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখলেও জানিয়েছে, শুধু এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়।

Published on: Sep 15, 2026, 10:27:42 IST
Advertisement

ভারতে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল Meta। শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর বিষয়, বিশেষ করে শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সংস্থাটি। সরকারি সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে Meta-র তরফে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক অর্থাৎ MeitY-কে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর বিষয়, বিশেষ করে শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সংস্থাটি (AFP)
শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর বিষয়, বিশেষ করে শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সংস্থাটি (AFP)

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ভারতে কাজ করা যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক দায়িত্ব। এই বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। সরকার Meta-র সিদ্ধান্তকে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখলেও জানিয়েছে, শুধু এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। শিশুদের নিয়ে ক্ষতিকর বা বেআইনি কনটেন্ট যাতে দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা যায়, তার জন্য আরও অনেক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকার জানিয়েছে, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চলছে। বিশেষ করে শিশুদের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত কনটেন্ট যাতে আগে থেকেই শনাক্ত করা যায় এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার আগেই সরানো যায়, সে বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। কোনও সংস্থা প্রয়োজনীয় সতর্কতা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র।

Meta-র ওপর নজরদারি বাড়ার মধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে। সম্প্রতি Instagram-এ শিশুর যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান বা CSEAM-যুক্ত বিজ্ঞাপন ছড়ানোর অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে National Commission for Protection of Child Rights বা NCPCR তদন্ত শুরু করে এবং Meta India-র আধিকারিকদের তলবও করে।

Meta জানিয়েছে, শিশু শোষণের মতো গুরুতর কনটেন্ট শনাক্ত করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তি, হ্যাশ ম্যাচিং এবং অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে শিশু শোষণের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০ লক্ষ অ্যাকাউন্ট এবং ৩ কোটি ৬০ লক্ষ কনটেন্ট সরানো হয়েছে। একই সময়ে ভারতে শিশু-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১.৬ লক্ষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে বলে Meta জানিয়েছে।

তবে শিশু সুরক্ষা নিয়ে Meta-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার ভারতে একটি ভাইরাল AI-নির্মিত ভিডিওর অ্যাক্সেস সীমিত করেছে Meta। ভিডিওটিতে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনকে KSEB-র আধিকারিকদের সঙ্গে নাচতে দেখা যায়। নির্মাতাদের দাবি, সরকারি নোটিসের ভিত্তিতে ভারতে ভিডিওটি সীমিত করা হয়েছে, যদিও দেশের বাইরে সেটি দেখা যাচ্ছিল। সীমাবদ্ধ করার আগে ভিডিওটি ১.৭৮ কোটিরও বেশি ভিউ পেয়েছিল বলে জানা গেছে।

ভিডিওটি আংশিকভাবে ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও সতীশন নিজেই একসময় সেটির প্রশংসা করেছিলেন। পরে তিনি মন্তব্য করেন, AI-নির্মিত কনটেন্ট ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ভিডিওটির নির্মাতাও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ভিডিওটি সরানোর জন্য সরাসরি আবেদন করেছে বলে তিনি মনে করেন না।

সব মিলিয়ে, একদিকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে Meta-র মতো বড় প্ল্যাটফর্মের ওপর সরকারি চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে AI-নির্মিত কনটেন্ট নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন। কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশু সুরক্ষা কোনও ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks