Telangana Congress: তেলাঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আবহ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির (Revanth Reddy) বিরুদ্ধে তাঁরই মন্ত্রিসভার এক সিনিয়র মন্ত্রীর কন্যার আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী কোন্ডা সুরেখার কন্যা তথা পারকাল বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিটপ্রত্যাশী কোন্ডা সুস্মিতা (Konda Sushmita) এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

বুধবার পারকালে এক সভায় সুস্মিতা কেবল রেবন্ত রেড্ডির বর্তমান বিধায়ক রেভুরি প্রকাশ রেড্ডিকে সমর্থনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতাই করেননি, বরং মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ক্ষমতাকে একহাত নিয়ে তাঁকে প্রকাশ্য বার্তা দিয়েছেন। সুস্মিতার এই মন্তব্য নির্বাচনী টিকিট বিতর্কের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান বিধায়কের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুস্মিতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, 'দু'বছর অপেক্ষা করার কী দরকার? ওঁকে এখনই পদত্যাগ করতে বলুন! তাঁকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে লড়তে বলুন।' এরপর আরও একধাপ এগিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, 'আপনি, আপনার বাবা বা আপনার দাদু যেই আসুন না কেন, পারকালের বিধায়ক আমিই হব।'
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'আমার টিকিট ঠিক করার রেবন্ত কে?' রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে 'অহংকার'-এর অভিযোগ তুলে সুস্মিতা দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে দল আজ 'টিডিপি কংগ্রেসে' (TD Congress) পরিণত হয়েছে এবং মূল কংগ্রেস নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারেই অসন্তুষ্ট। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, রেবন্ত রেড্ডির পরিবারের আরও একাধিক দুর্নীতির কেলেঙ্কারি তিনি ফাঁস করে দিতে পারেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন নজিরবিহীন আক্রমণের পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে প্রদেশ কংগ্রেস। সুস্মিতার এই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর মা তথা মন্ত্রী কোন্ডা সুরেখাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য কংগ্রেসের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। পাশাপাশি, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রবীণ নেতা জাক্কিদি প্রভাকর রেড্ডিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং পরিকল্পনা বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চিন্না রেড্ডির কাছেও জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। হাইকমান্ড আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে মন্ত্রিত্বের স্তরে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ‘কোমাতিরেড্ডি ফ্যাক্টর।’ মুনুগোড়ে কেন্দ্রের বিধায়ক কোমাতিরেড্ডি রাজাগোপাল রেড্ডি প্রকাশ্যে রেবন্ত রেড্ডি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বহিরাগতদের ভূমিকা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে তেলাঙ্গানা কংগ্রেসের বহু পুরনো ফাটল-আদি বনাম নব্য সংঘাত। প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে রয়েছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক, এন উত্তম কুমার রেড্ডি, কোমাতিরেড্ডি ভেঙ্কট রেড্ডি, ডি শ্রীধর বাবু, দামোদর রাজানরসিংহ, কোন্ডা সুরেখা এবং প্রবীণ নেতা ভি হনুমন্থ রাও। রেবন্তের উত্থান এবং তাঁর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার সময়েও তাঁদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
{{/usCountry}}এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ‘কোমাতিরেড্ডি ফ্যাক্টর।’ মুনুগোড়ে কেন্দ্রের বিধায়ক কোমাতিরেড্ডি রাজাগোপাল রেড্ডি প্রকাশ্যে রেবন্ত রেড্ডি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বহিরাগতদের ভূমিকা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে তেলাঙ্গানা কংগ্রেসের বহু পুরনো ফাটল-আদি বনাম নব্য সংঘাত। প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে রয়েছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক, এন উত্তম কুমার রেড্ডি, কোমাতিরেড্ডি ভেঙ্কট রেড্ডি, ডি শ্রীধর বাবু, দামোদর রাজানরসিংহ, কোন্ডা সুরেখা এবং প্রবীণ নেতা ভি হনুমন্থ রাও। রেবন্তের উত্থান এবং তাঁর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার সময়েও তাঁদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ক্ষমতার নতুন ভারসাম্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বি মহেশ কুমার গৌড়, সিডব্লিউসি-র বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য সিএইচ বংশী চন্দ রেড্ডি, নেতা চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি এবং রাজ্যসভার সাংসদ অনিল কুমার যাদব ও ভেম নরেন্দর রেড্ডির মতো নেতারা। মন্ত্রী পঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি এবং ডি অনসূয়া সীতাক্কাও রেবন্তের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই অবস্থান করছেন। প্রকাশ্যে আসা এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে চরম রাজনৈতিক দোলাচলে পড়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে যেমন শক্তিশালী আঞ্চলিক ভিত্তিসম্পন্ন প্রবীণ নেতাদের বিমুখ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তেমনই বিদ্রোহকে প্রশ্রয় দিলে ক্ষুণ্ণ হতে পারে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব।