IRS Officer Daughter Murder: রাজধানীর বুকে ফের ভয়ঙ্কর নারী নির্যাতনের ঘটনা। দক্ষিণ পূর্ব দিল্লির অমর কলোনি এলাকার অভিজাত কৈলাস হিলস থেকে রহস্যজনকভাবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায় যৌন নির্যাতনের পর মোবাইল ফোনের কেবল চার্জার গলায় পেঁচিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। খুনের ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয় বাড়ির প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মিনাকে। এবার দিল্লির আইআরএস আধিকারিকের কন্যার ধর্ষণ-খুনের তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘটনায় দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে রাহুলের বিরুদ্ধে।

নিহত তরুণীর বাবা ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর কর্তা। পুলিশ জানিয়েছে, আমলা-কন্যার বয়স ২২। আইআইটি দিল্লির স্নাতক। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।বুধবার তাঁকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় নিজের বাড়িতেই। ঘটনার সময় ওই তরুণী বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর বাবা-মা সকাল বেলাতেই জিমে গিয়েছিলেন। ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পান মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে মেয়েকে। তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবারই দিল্লির একটি হোটেল থেকে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তদন্ত যত গড়িয়েছে, ততই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গিয়েছে, ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দু’বার ধর্ষণ করেছে রাহুল। প্রথমটি রাজস্থানের অলওয়ারে। সেখানে নির্যাতিতা ইতিমধ্যেই পুলিশে অভিযোগ করেছেন। দ্বিতীয়টি দিল্লিতে, ধর্ষণ করে নির্যাতিতাকে খুন করেছে রাহুল।
কৈলাস হিলস-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দিল্লি ধর্ষণ ও হত্যা: এইচটি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ কৈলাশ হিলস এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে রাহুলকে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাকে আবার সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিজয় কুমার জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে অভিযুক্ত তার প্যান্ট ও জুতো বদলেছিল। একজন তদন্তকারীর মতে, রাহুল প্রায় ৪০ মিনিট বাড়ির ভেতরে ছিল, এই সময়ে সে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে এবং শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর একটি কালো ব্যাকপ্যাকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
দিল্লি-কাণ্ডে নেপথ্যের উদ্দেশ্য: পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রাহুল মীনা (২৩) আগে ওই আমলার বাড়িতেই পরিচারকের কাজ করত। কিন্তু জুয়ো খেলা ও আশপাশের লোকের থেকে টাকা ধার করার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই ধর্ষণ-খুন-ডাকাতির নেপথ্যের উদ্দেশ্য 'প্রতিশোধ' এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তৈরি ক্ষোভ। তবে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
{{/usCountry}}দিল্লি-কাণ্ডে নেপথ্যের উদ্দেশ্য: পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রাহুল মীনা (২৩) আগে ওই আমলার বাড়িতেই পরিচারকের কাজ করত। কিন্তু জুয়ো খেলা ও আশপাশের লোকের থেকে টাকা ধার করার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই ধর্ষণ-খুন-ডাকাতির নেপথ্যের উদ্দেশ্য 'প্রতিশোধ' এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তৈরি ক্ষোভ। তবে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
{{/usCountry}}জোড়া ধর্ষণ: পুলিশ কর্তাদের মতে, দিল্লিতে অপরাধটি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাহুল আলওয়ারে তার গ্রামে আরেক মহিলাকে ধর্ষণ করেছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অনলাইন জুয়ার প্রতি তার আসক্তি থেকে বুধবার সকালে ডাকাতির উদ্দেশ্যে আমলার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
পরিচিত মহিলাকে ধর্ষণ: পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এক প্রতিবেশীর ঘরে জোর করে ঢোকে রাহুল। সেখানে এক মহিলাকে ধর্ষণ করে। তারপর নির্যাতিতাকে শাসানি দেয়, কাউকে কিছু বললে গোটা পরিবারকে খুন করে দেবে। রাত ১১টা নাগাদ হুমকি দিয়ে বেরিয়ে যায় রাহুল। তারপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। কিন্তু ততক্ষণে রাজস্থান থেকে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে রাহুল। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দিল্লিতে আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে ঢোকে সে।
দিল্লিতে অভিযুক্ত: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরপরই রাহুল মীনা আলওয়ার ছেড়ে দিল্লির দিকে রওনা দেয়। অভিযোগ, সে তার একটি ফোন ১০,০০০ টাকায় বিক্রি করে এবং চালককে ৬,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি ভ্যান ভাড়া করে । একজন কর্মকর্তা বলেন, 'তবে, সে দিল্লিতে পৌঁছে চালককে টাকা না দিয়েই ভ্যান থেকে নেমে যায়।' পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিজয় কুমার জানান, অভিযুক্ত সকাল ৬টা ৩৯ মিনিট নাগাদ আমলার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ২২ বছর বয়সি ওই তরুণীকে খুন করে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, আমলার বাসভবনে ঢুকতে গেলে বহু স্তরীয় নিরাপত্তা টপকাতে হয়। এ ছাড়াও বাসভবনের প্রতিটি তলে প্রবেশের জন্য পাসকোড রয়েছে। আমলার ঘরে ঢোকার জন্য চারটি তালা খুলতে হয়। পুলিশের সন্দেহ, ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়েছিলেন অভিযুক্ত পরিচারক। এছাড়াও পাসকোডও জানতেন। ফলে প্রবেশের পথ আরও সহজ হয়েছিল তাঁর কাছে।
ময়নাতদন্ত: বুধবার ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ওই তরুণী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন; শ্বাসরোধই মৃত্যুর কারণ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এরপর শেষকৃত্যের জন্য দেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।