Lucknow Death Case: লখনউয়ের ক্যাফের মালিক শিবা শর্মার মৃত্যু ঘিরে রহস্য বেড়েই চলেছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, না কি খুন করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই আবহে একাধিক রাজ্য জুড়ে টানা ১১ দিনের নাটকীয় তল্লাশির পর অবশেষে ইতি টানল পুলিশ। বারবার ডেরা বদলেও শেষ রক্ষা হল না। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক গোপন ডেরা থেকে লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার খুনের প্রধান অভিযুক্ত মডেল তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবেকে গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের টাস্ক ফোর্স। লখনউ পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) এক যৌথ অভিযানে শ্রদ্ধা ডাবের পাশাপাশি তাঁর বোন রশ্মি দুবে এবং গাড়ি চালক তানভীর আলি ওরফে দানিশকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের এক আবাসন থেকে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার দেহ উদ্ধার হয়। যার সঙ্গে তিনি একত্রবাস করতেন সেই মডেল শ্রদ্ধা দুবে যে আবাসনে থাকতেন, সেই আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে শিবার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। যদিও শিবার মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের তীর, শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়ি চালক দানিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিন জন। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে। ঘটনার কয়েকদিন পরেই শ্রদ্ধার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। লখনউ থেকে পালিয়ে নেপালে গিয়ে শ্রদ্ধার ডেরা বাঁধার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করে। তবে গ্রেফতারি এড়াতে প্রতি মুহূর্তে নিজের ঠিকানা বদলাতে থাকেন শ্রদ্ধা।
অভিযুক্তদের ধরতে উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্য এবং এমনকী ভারত-নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত জাল বিছিয়েছিল তদন্তকারী দল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, বাহরাইচ জেলার রুপাইডিহা সীমান্ত দিয়ে তিনজনেই সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, তাঁরা আগ্রা হয়ে বিমানে নাগপুরে পাড়ি দেন। যদিও এই ১১ দিন তাঁরা ঠিক কোথায় কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ। দু'দিন আগে পুলিশের কাছে এক ভিডিও বার্তায় শ্রদ্ধা দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। শিবার মৃত্যু কোনও হত্যা বা খুনের ঘটনা নয়। আবাসনের সিসিটিভি খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। শিবার বিপুল ধারদেনা হয়ে গিয়েছিল। ১৬-১৭ লক্ষ টাকা দেনা হয়েছিল তাঁর। পাওনাদারেরা তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শিবা প্রচণ্ড বিচলিত ছিলেন। পুলিশ এবং আদালতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন শ্রদ্ধা। সেই ডিডিও বার্তার দু'দিন বাদেই নাগপুর থেকে শ্রদ্ধাকে গ্রেফতার করল টাস্ক ফোর্স।