Modi on Critical Minerals in BRICS: ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশে রেখেই মোদী বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং বিরল খনিজকে কোনও দেশের হাতিয়ার করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই ধরনের কৌশল বিশ্বে যৌথ উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

রবিবার ব্রিকস সম্মেলনের সমাপ্তি বক্তব্যে মোদী বলেন, কৌশলগত সম্পদ এবং প্রযুক্তিকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বিরল খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব শুধু একটি দেশের উপর পড়ে না, গোটা বিশ্ব সমস্যায় পড়তে পারে।
বর্তমান বিশ্বে বিরল খনিজের গুরুত্ব অনেক। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে এই খনিজগুলির প্রয়োজন হয়। তাই কোনও দেশের হাতে এই সম্পদের সরবরাহের উপর বড় নিয়ন্ত্রণ থাকলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে।
এই জায়গাতেই চিনের প্রসঙ্গ সামনে আসে। বিরল খনিজের খনি, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চিনের প্রভাব যথেষ্ট বেশি। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাতের সময় বিরল খনিজ রপ্তানিতে চিনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ভারতের জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স এবং নতুন প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরল খনিজ প্রয়োজন। তাই ভারত চাইছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে।
{{/usCountry}}ভারতের জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স এবং নতুন প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরল খনিজ প্রয়োজন। তাই ভারত চাইছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে মোদীর মন্তব্যকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চিনের নাম নেননি। কিন্তু বিশ্বে বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চিনের বড় ভূমিকার কারণে তাঁর বক্তব্যকে বেজিংয়ের উদ্দেশে পরোক্ষ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
তবে মোদীর বক্তব্য শুধু চিনকে ঘিরে ছিল না। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্বের বড় সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করা দরকার। ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবসায়ী, কৃষক, গবেষক, মহিলা, তরুণ এবং সাধারণ মানুষকেও এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মোদী। সেগুলি হল—সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপরও জোর দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ব্রিকসের মঞ্চে মোদীর বক্তব্যে একদিকে ছিল পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা, অন্যদিকে ছিল কৌশলগত সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা। শি জিনপিংকে পাশে রেখে বিরল খনিজকে ‘অস্ত্র’ না করার মন্তব্য তাই নিছক সাধারণ বক্তব্য, নাকি চিনকে দেওয়া কূটনৈতিক বার্তা—সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।