বিশ্ব জুড়ে যখন খুশির ইদ পালিত হচ্ছে, তখন ইরানে যুদ্ধ তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই সেদেশের নানান পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল ও আমেরিকার বাহিনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এদিকে, ইরানও পাল্টা আরব বিশ্বে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এমন অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এদিন ইদ ও নউরাজ উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ফোনালাপে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন মোদী।

খুশির ইদে এদিন উৎসবের মেজাজে গা ভাসিয়েছেন ভারত সহ বিশ্বের নানান প্রান্তের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। এদিকে, ইরান সহ বহু দেশে এদিন নউরাজ উৎসবও পালিত হচ্ছে। এই নউরাজ হল পার্সিয়ান নববর্ষ। মূলত, মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, বালকান সহ বিভিন্ন অঞ্চলে এই দিনটি নউরাজ হিসাবে পালিত হয়। আর এই দিনটি প্রতি বছর বিশেষভাবে ইরানেও পালিত হয়। তবে নউরাজের এই দিনে ইরান আজ যুদ্ধে লিপ্ত। এমন দিনে বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা থেকে শুরু করে কেনাকাটা করে থাকেন ইরান সহ বহু দেশের মানুষ। এরইসঙ্গে পরিবারের সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া, বলোনি-সহ নানান রীতি পালন করে থাকেন। এই অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করেন মোদী।
মোদী তাঁর বার্তায় লেখেন, ‘রাষ্ট্রপতি ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলেছি এবং তাঁকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমরা আশা প্রকাশ করেছি যে এই উৎসবের মরসুম পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।’ এরই সঙ্গে মোদী লেখেন,'এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে। নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং নৌপথগুলো উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছি। ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য ইরানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেছি।' এই বার্তা দিয়ে দিল্লি কার্যত এই যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চলা ইজরায়েল ও আমেরিকার হানার পর থেকে এই নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে দ্বিতীয়বার ফোন করলেন মোদী।