বিজেপির নতুন রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে এবার সরব হলেন ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস। ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’—বিজেপির এই প্রচারকে রাজনৈতিক অহংকার বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই স্লোগানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সৌরভ। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানির একটি সমাজমাধ্যমের পোস্টও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি এবং বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে CJP নেতার এই মন্তব্য নতুন করে চর্চা শুরু করেছে।

ঠিক কী বলেছেন সৌরভ? স্মৃতি ইরানির একটি পোস্ট ভাগ করে নিয়ে তিনি লেখেন, ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’—কোনও রাজনীতিকের নিজের সম্পর্কে করা সবচেয়ে বড় অহংকারের প্রকাশ হতে পারে এই স্লোগান। সাধারণ মানুষ এমন মনোভাব পছন্দ করেন না। তাঁর মতে, এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে চরম হতাশা, গভীর ভয় এবং সব সময় ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার স্মৃতি ইরানি একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা যায় তাঁকে। তাঁদের পিছনে একটি পোস্টার ছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’। সেই ছবিকেই হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন CJP নেতা।
কিন্তু বিজেপির এই স্লোগানের সূত্রপাত কোথায়?
গত অক্টোবর মাসে বিহারের পটনায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। সেখানে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। পরে কংগ্রেসের তরফে সাফাই দেওয়া হলেও পাল্টা প্রচারে নামে বিজেপি। বিরোধীদের বক্তব্যের জবাব দিতেই ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’ স্লোগান সামনে আনা হয়। একাধিক রাজ্যে বিজেপির সভা এবং মিছিলেও এই স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। গুজরাত-সহ বিভিন্ন জায়গায় এই প্রচার চালানো হয়েছে। এবার সেই প্রচারকেই নিশানা করল CJP।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, রবিবার দিল্লিতে বিরোধী জোট INDIA-র একটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। প্রথম দিকে সেই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছিল CJP। তবে দলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেয়, তারা সরাসরি সমাবেশে অংশ নেবে না। দলটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠন হিসাবেই নিজেদের পরিচয় বজায় রাখতে চায়। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে সংগঠনই আন্দোলন করবে, তাদের পাশে থাকবে তাঁর দল।
{{/usCountry}}উল্লেখযোগ্য বিষয়, রবিবার দিল্লিতে বিরোধী জোট INDIA-র একটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। প্রথম দিকে সেই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছিল CJP। তবে দলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেয়, তারা সরাসরি সমাবেশে অংশ নেবে না। দলটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠন হিসাবেই নিজেদের পরিচয় বজায় রাখতে চায়। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে সংগঠনই আন্দোলন করবে, তাদের পাশে থাকবে তাঁর দল।
{{/usCountry}}এর আগে অভিজিৎ দীপকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনের সময় মমতা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকার গ্রেফতারির সময়ও মমতা তাঁদের সমর্থন করেছিলেন বলে জানান অভিজিৎ।
অন্য দিকে, বিজেপিও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নিয়ে একাধিক রাজ্যে সভা ও মিছিলের আয়োজন করছে। সোমবার বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীন বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও তেলঙ্গানায় পদযাত্রা করার কথা রয়েছে।
এর আগে দিল্লির চাঁদনি চক এলাকায় বিজেপির সভা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল CJP। তাদের অভিযোগ ছিল, বিজেপি সভা করার অনুমতি পেলেও একই ধরনের কর্মসূচি করতে অন্য সংগঠনগুলিকে অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে, বিজেপির নতুন স্লোগানকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ল। বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে সমর্থন জানানো এবং বিজেপির প্রচারকে অহংকার বলে আক্রমণ, দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল CJP।