...
...
Next Story

Modi's Message to Pakistan: ২৫ বছরের মঞ্চে মোদীর 'ঘরে ঢুকে মারা'র বার্তা, নাম না করে নিশানায় পাকিস্তান

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর—সন্ত্রাসের জবাব দিতে ভারত যে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা গেল, ‘‘ঘর মে ঘুসকে মারা’’।

Published on: Oct 7, 2026, 11:58:12 IST
Advertisement

২৫ বছরের প্রশাসনিক সফর। এক দিকে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন, অন্য দিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান। বুধবার দিল্লিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় বার বার উঠে এল শক্তিশালী ভারতের ছবি। আর সেই ভাষণেই নাম না করে পাকিস্তানকে যেন ফের পুরনো বার্তা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর—সন্ত্রাসের জবাব দিতে ভারত যে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা গেল, ‘‘ঘর মে ঘুসকে মারা’’।

মোদী মুখে শোনা গেল, ‘‘ঘর মে ঘুসকে মারা’’। (@NarendraModi)
মোদী মুখে শোনা গেল, ‘‘ঘর মে ঘুসকে মারা’’। (@NarendraModi)

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদী। সেই দিন থেকে প্রশাসনের শীর্ষে তাঁর পথচলা। ২৫ বছর পূর্তির এই বিশেষ আয়োজনে তাই শুধু অতীতের সাফল্যের হিসাব নয়, আগামী ভারতের রূপরেখাও তুলে ধরলেন তিনি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বললেন, আত্মনির্ভরতার পথেই এগোতে হবে। তাঁর কথায়, লক্ষ্য বড় হতে হবে, আর সেই লক্ষ্য পূরণে দরকার অদম্য আত্মবিশ্বাস। অনুষ্ঠানে তাঁর দেওয়া স্লোগান—‘উই উইল ডু ইট’, অর্থাৎ ‘আমরা করে দেখাবই’।

কিন্তু ভাষণের অন্য একটি অংশে আচমকাই বদলে যায় সুর। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি কিংবা আত্মনির্ভরতার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের নাম সরাসরি না নিলেও কথার নিশানা যে কোথায়, তা বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের মাটিতে হামলার জবাব সীমান্তের ওপারেও পৌঁছতে পারে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে যে নীতি ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে, অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখে সেটিকেই আরও এক বার সামনে আনলেন তিনি।

৩৭০ থেকে সন্ত্রাস দমন, বদলের দাবি মোদীর

তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত ছিল আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গও। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো নতুন শিল্পে ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, শক্তিশালী ভারত বলতে শুধু বড় অর্থনীতি নয়, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত ক্ষমতায় আত্মনির্ভর দেশকেও বোঝায়।

‘কর্মই ধর্ম’, কিন্তু নিরাপত্তায় আপস নয়

২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিজেকে ‘সেবক’ হিসেবেই তুলে ধরেছেন মোদী। গীতার ‘মা ফলেষু কদাচন’ উদ্ধৃত করে বলেছেন, ফলের চিন্তা না করে কাজ করে যাওয়াই তাঁর সংকল্প। জনতার আস্থা এবং কর্মীদের পরিশ্রমকেই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। বলেছেন, প্রতিটি সাফল্য তাঁকে আরও বড় দায়িত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে, আর প্রতিটি সংকট শিখিয়েছে ধৈর্য।

এই আবেগঘন আত্মমূল্যায়নের মাঝেই পাকিস্তানের উদ্দেশে কঠিন বার্তা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মোদী বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারতের উন্নয়নযাত্রা যেমন থামবে না, তেমনই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইও নরম হওয়ার নয়। কূটনৈতিক ভাষায় সরাসরি প্রতিবেশীর নাম না নিয়েও ‘ঘরে ঢুকে মারা’-র বার্তা দিয়ে তিনি কার্যত জানিয়ে দিলেন—সীমান্তপারের সন্ত্রাস হলে তার জবাব সীমান্তের হিসাব মেনে দেওয়া নাও হতে পারে। ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রার মঞ্চে তাই মোদীর বার্তার দুই মুখ—এক দিকে ‘বিকশিত ভারত’, অন্য দিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ভারত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks