ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন। শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তা ও আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা পেসার। ২০২৩ সালে ওভাল-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালেই ভারতের হয়ে শেষবার টেস্ট ক্রিকেটের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায়’— শামির আবেগঘন বার্তা:
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের স্মৃতির কথা তুলে ধরে শামি লেখেন, ‘আমি সাদা পোশাককে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনো নয়। প্রথমবার যখন ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করা। তারপর থেকে প্রতিটা উইকেট, লড়াই, চোট এবং ফিরে আসা আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না, এটি আমার জীবনের অত্যন্ত বিশেষ একটি অংশ ছিল। আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি সাথে নিয়ে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করছি।’
তিনি বিসিসিআই (BCCI), ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB), তাঁর সতীর্থ, কোচ এবং কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে তাঁদের সমর্থনের জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
লাল বলের ক্রিকেটে শামির রাজকীয় রেকর্ড:
আধুনিক ভারতীয় পেস বোলিংয়ের স্বর্ণযুগের কারিগর হিসেবে শামি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ভারতের হয়ে মোট ৬৪টি টেস্ট খেলে ২২৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। টেস্টে ২০০-র বেশি উইকেট নেওয়া পঞ্চম ভারতীয় পেসার তিনি।
{{/usCountry}}ভারতের হয়ে মোট ৬৪টি টেস্ট খেলে ২২৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। টেস্টে ২০০-র বেশি উইকেট নেওয়া পঞ্চম ভারতীয় পেসার তিনি।
{{/usCountry}}২০১৩ সালে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেই ৯ উইকেট নিয়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন শামী। তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৬ রানে ৬ উইকেট।
ব্যাটেও অবদান: বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতেও কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। ২০২১ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসটি ভারতকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিল।
ফিটনেস বিতর্ক ও জাতীয় দল থেকে উপেক্ষা:
সাম্প্রতিক সময়ে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে বল হাতে দুরন্ত পারফর্ম করা সত্ত্বেও জাতীয় দলের নির্বাচকদের খাতায় বারবার উপেক্ষিত হয়েছেন শামি। ভারতের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।
প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকরের সঙ্গে ফিটনেস ইস্যুতে শামির প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল। আগারকর তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুললে শামি পাল্টা সাফ জানিয়েছিলেন— ফিট না থাকলে তিনি বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে নামতে পারতেন না। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির জন্য বাংলার ১৯ জনের দলেও জায়গা পেয়েছেন এই বর্ষীয়ান পেসার।
লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ভারতের হয়ে খেলার গর্ব সারাজীবন হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে বলে জানান শামি।