...
...
Next Story

Mohan Bhagwat on RSS: ‘তীব্র ঘৃণা নয়, শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমই আরএসএসের কাজের ভিত্তি’: লন্ডনে মোহন ভাগবত

লন্ডনে ‘সেলিব্রেশন অব ওয়াননেস’ বা ‘একাত্মতার উদযাপন’ শীর্ষক এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, কেউ কেউ মনে করেন তীব্র ঘৃণাই আরএসএসের কাজের চালিকাশক্তি। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমই আমাদের কাজের ভিত্তি।”

Published on: Sep 7, 2026, 09:38:39 IST
Advertisement

লন্ডনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজের মূল দর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। রবিবার লন্ডনে আয়োজিত এক সভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আরএসএসের কাজের ভিত্তি ‘তীব্র ঘৃণা’ নয়, বরং ‘শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেম’। তাঁর বক্তব্য, পারস্পরিক আপনত্ব, একাত্মবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই সংঘের কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি।

লন্ডনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজের মূল দর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। (RSS)
লন্ডনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজের মূল দর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। (RSS)

লন্ডনে ‘সেলিব্রেশন অব ওয়াননেস’ বা ‘একাত্মতার উদযাপন’ শীর্ষক এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, কেউ কেউ মনে করেন তীব্র ঘৃণাই আরএসএসের কাজের চালিকাশক্তি। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমই আমাদের কাজের ভিত্তি।” তাঁর দাবি, এক শতাব্দী পেরিয়েও এই ভাবনা আরএসএসের স্বয়ংসেবকদের আচরণ এবং সংগঠনের পরিবেশে অটুট রয়েছে।

ভাগবতের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘আপনাপন’ বা আপনত্বের ধারণা। তাঁর মতে, এই বোধ শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে সমগ্র মানবতার সঙ্গে একাত্মতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হিন্দু সভ্যতার প্রকৃতিও এই দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, হিন্দুরা শুধু প্রকৃতিকে উপাসনা করেন না, প্রকৃতিকে ভালোওবাসেন।

বিশ্বজুড়ে সংঘাত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকট এবং ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে হিন্দু সভ্যতা বিশ্বকে কী দিতে পারে—এই প্রশ্নেরও উত্তর দেন ভাগবত। তিনি বলেন, হিন্দু চিন্তার অন্যতম মূল ভিত্তি হল ‘সমস্ত অস্তিত্ব এক’। পৃথিবীতে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং সেই বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে হবে। তবে বৈচিত্র্যের মধ্যে যে মৌলিক ঐক্য রয়েছে, সেটিকেও মনে রাখতে হবে।

পরিবেশ রক্ষার সঙ্গেও মানব উন্নয়নকে একই সূত্রে দেখেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কখনও প্রকৃতিকে ধ্বংস করে হতে পারে না। বরং মানুষের অগ্রগতি এবং প্রকৃতির অগ্রগতি পরস্পরের পরিপূরক হওয়া উচিত। ‘গ্রিন সলিউশন’ বা পরিবেশবান্ধব সমাধানের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি প্রকৃতিকেও রক্ষা করার কথা বলেন তিনি।

ভাগবত আরও বলেন, ব্যক্তি অধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব, মানব উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ—এমন আপাতবিরোধী বিষয়গুলির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব। তাঁর মতে, এই সব কিছুকে যুক্ত করে যে মূল নীতি কাজ করে তা হল ‘অস্তিত্বের ঐক্য’। বিশ্বের সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত—এই ধারণাই ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন পথ দেখাতে পারে।

তিনি জানান, অতীতেও হিন্দু সভ্যতা এই দর্শনকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেছে। এখন আধুনিক পরিস্থিতির উপযোগী নতুন মডেল তৈরি করে বিশ্বকে সেই চিন্তার ভিত্তিতে সমাধান দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদেশে সংগঠনের বিস্তৃত প্রচারের অংশ হিসেবেই লন্ডনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ ইউকে-র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্রিটেনের তিন শতাধিক হিন্দু ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক ও টরন্টো সফরের পর তিন শহরব্যাপী শতবর্ষের প্রচার কর্মসূচির শেষ পর্বে লন্ডনে পৌঁছেছেন মোহন ভাগবত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe