Delhi High Court: নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এবার কেন্দ্রের ‘নজর’ কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন কাদেমি মসজিদের উপর। দিল্লি হাইকোর্টে একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করে মসজিদটি সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কোনও সরকারি দফতরের চত্বরের ভিতরে স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের ভূমি ও উন্নয়ন দফতরের তরফে একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করা হয় দিল্লি হাইকোর্টে। সরকারের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখা সরকারের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। সে কারণেই ১০০ বছরেরও প্রাচীন মসজিদটি কৃষি ভবন চত্বর থেকে সরানো প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী জামা মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এটি কেবল প্রার্থনার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্টেটাস রিপোর্টে প্রথম বার স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করা হল যে মসজিদটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হবে, কারণ কেন্দ্রীয় ভিস্তা পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনায় নতুন বিভিন্ন ভবন নির্মাণের জন্য কৃষি ভবন এবং তার সংলগ্ন শাস্ত্রী ভবন ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এর আগে ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াকফ-তালিকাভুক্ত এই মসজিদটির পরিচালনা কমিটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ গত ১৯ জানুয়ারি কৃষি ভবন ও শাস্ত্রী ভবনের স্থানে কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের ৪ ও ৫ নম্বর ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে জানা যায়, মসজিদটি অপসারণের তালিকায় সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও নতুন ভবনের নকশায় এর কোনও অস্তিত্ব ছিল না। গত ২৭ অক্টোবর নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের ভূমি ও উন্নয়ন দফতর এক রিপোর্টে জানায়, এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাঙ্গণে থাকা মসজিদটি অপসারণ করা আবশ্যক।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, কৃষি ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ও পাবলিক সার্ভিস কাজের জন্য নির্ধারিত নিরপেক্ষ সরকারি সম্পত্তি। এখানে কোনও স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা এর দাবি করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গেও এটি মেলানো সম্ভব নয়। তবে মসজিদ কমিটি আদালতে দাবি করেছে যে, পুনর্ন্নয়ন এড়ানো অসম্ভব হলে নিকটবর্তী কোনও সুবিধাজনক স্থানে বিকল্প প্রার্থনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে কৃষি ভবন ও আশেপাশের সরকারি দফতরের কর্মচারীরা কাজের ফাঁকে এখানে প্রার্থনা করে আসছেন। এর জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, জমির মালিক হিসেবে সরকার কৃষি ভবন বা সচিবালয় চত্বরে মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দিতে বাধ্য নয়। তাছাড়া নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেটের কাছেই 'শাহি মসজিদ জাবতা গঞ্জ' নামে আরেকটি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যা নিকটস্থ দূরত্বে প্রার্থনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
{{/usCountry}}রিপোর্টে আরও বলা হয়, কৃষি ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ও পাবলিক সার্ভিস কাজের জন্য নির্ধারিত নিরপেক্ষ সরকারি সম্পত্তি। এখানে কোনও স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা এর দাবি করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গেও এটি মেলানো সম্ভব নয়। তবে মসজিদ কমিটি আদালতে দাবি করেছে যে, পুনর্ন্নয়ন এড়ানো অসম্ভব হলে নিকটবর্তী কোনও সুবিধাজনক স্থানে বিকল্প প্রার্থনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে কৃষি ভবন ও আশেপাশের সরকারি দফতরের কর্মচারীরা কাজের ফাঁকে এখানে প্রার্থনা করে আসছেন। এর জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, জমির মালিক হিসেবে সরকার কৃষি ভবন বা সচিবালয় চত্বরে মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দিতে বাধ্য নয়। তাছাড়া নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেটের কাছেই 'শাহি মসজিদ জাবতা গঞ্জ' নামে আরেকটি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যা নিকটস্থ দূরত্বে প্রার্থনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
{{/usCountry}}২০২১ সালের ডিসেম্বরে, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ছ’টি মসজিদের সুরক্ষা চেয়ে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিল। এই ছ’টি মসজিদের মধ্যে কৃষি ভবনের খোলা চত্বরে অবস্থিত কাদিমি মসজিদও রয়েছে। যদিও সে সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেছিলেন 'এই সম্পত্তিগুলির কিছুই হচ্ছে না। আমরা আপনাদের মহামান্য আদালতের সামনে উপস্থিত রয়েছি। এটি (সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প) একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আমরা এখনও এটি রূপায়ণের কাছাকাছি পৌঁছোইনি।' এ বার মসজিদ ‘সরানোর’ কথা মেনে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি দিল কেন্দ্রীয় সরকার।