...
...
Next Story

Toddler abused: শরীরে ৯১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকা! মায়ের প্রেমিকের হাতে খুন শিশু, চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে স্তম্ভিত দেশ

Toddler abused in Kerala: পুলিশি জেরায় আশকার স্বীকার করেছে, প্রায় তিন মাস আগেই সে শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। গত এক মাস ধরে নিয়মিত শিশুটির উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।

Published on: Jun 3, 2026, 23:32:14 IST
Advertisement

Toddler abused in Kerala: কেরলে হাড়হিম করা শিশু হত্যার ঘটনা। মাত্র দেড় বছর বয়সি এক শিশুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে তার মা এবং মায়ের লিভ-ইন পার্টনারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিশুটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা অমানুষিক নির্যাতন এবং নৃশংস শারীরিক অত্যাচারের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।

শরীরে ৯১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকা! মায়ের প্রেমিকের হাতে খুন শিশু, চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে স্তম্ভিত দেশ
শরীরে ৯১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকা! মায়ের প্রেমিকের হাতে খুন শিশু, চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে স্তম্ভিত দেশ

সূত্রের খবর, গত ২৯ মে ওই শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে পানাভুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শ্রী আভিত্তম থিরুনাল (স্যাট) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল তার মায়ের প্রেমিক আশকর। তিনি চিকিৎসকদের কাছে দাবি করেন, শিশুটি খাবার ও জল খাওয়ার পর হঠাৎ বমি করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খাবার খেতে গিয়ে শ্বাস আটকে যাওয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। কিন্তু আশকরের এই অজুহাতে সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুর আত্মীয়রা। তাঁরা তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। আর তারপরেই শুরু হয় তদন্ত। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই আশকরের সমস্ত মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, শিশুটির শরীরে ৯১টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, শিশুটি তার মায়ের প্রেমিক আশকরের হাতে ক্রমাগত ও নৃশংস শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। রিপোর্টে এ-ও জানানো হয়েছে, শিশুটির পাঁজরের সাতটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে মারধরের ফলে অভ্যন্তরীণ আঘাত এবং মাথার খুলির ভিতরে আঘাত ও রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে তার। পাশাপাশি, শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা এবং যৌনাঙ্গে আঘাতও রয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই আঘাতগুলো বারবার নির্যাতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, খুনের প্রায় এক মাস আগে শিশুর দুই হাত ভেঙে গিয়েছিল। প্রতিবেশীদের তখন বলা হয়েছিল, সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে এই চোট লেগেছে। এমনকী শিশুর হাতে প্লাস্টার বাঁধা অবস্থার একটি ছবি মা নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসেও দিয়েছিলেন। পরে সেই প্লাস্টারের অংশ বাড়ির চত্বর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৬ মে, মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শিশুকে নিয়ে তার মা একটি বাসস্ট্যান্ডে এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে দেখা করেন। ওই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করার জন্য তাদের কিছু উপহার দিয়েছিলেন।

পুলিশি জেরায় আশকার স্বীকার করেছে, প্রায় তিন মাস আগেই সে শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। গত এক মাস ধরে নিয়মিত শিশুটির উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে শিশুকে ‘বাধা’ বলেই মনে করত আশকার। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি থেকে শিশুকে মারার জন্য ব্যবহৃত লাঠি এবং আগুনে পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত লাইটার উদ্ধার করে। আশকার জানিয়েছে, শিশুর কান্না বন্ধ করতে প্রায়ই তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হত। গত ২৯ মে শিশুটি জোরে কাঁদতে শুরু করলে মাথায় আঘাত করে সে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘর পরিষ্কার করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য, পুলিশকে দেওয়া বয়ানে মহিলা স্বীকার করেছেন যে তিনি ছেলের উপর চলা নির্যাতনের কথা জানতেন। একাধিকবার আশকারকে শিশুটিকে হাত ও লাঠি দিয়ে মারতে দেখলেও তিনি তাকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টা করেননি।

এদিকে এই ঘটনার পরেই মূল অভিযুক্ত আশকরের বিরুদ্ধে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে তার প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবার। আশকরের প্রাক্তন শাশুড়ির দাবি, আশকর তার প্রথম স্ত্রী আমিনার ওপরও অতীতে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, আমিনার ওপর নির্মম অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল আশকর। সেই নৃশংস অত্যাচারের কারণে আমিনা প্রায় এক বছর ধরে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। পুলিশ এখন আশকারের অতীতের একাধিক অভিযোগ, এমনকি তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি রহস্যমৃত্যুর ঘটনাও খতিয়ে দেখছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe