ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আমেরিকার সংস্থা জেনারেল অ্যাটমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ভারত সরকার। এই চুক্তির আওতায় দুটি MQ-9B Sea Guardian ড্রোন ভাড়ায় নেওয়া হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রায় ১,৯৪৩ কোটি টাকার এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ মাস। সোমবার নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধিগ্রহণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তথা ডিরেক্টর জেনারেল এ অনবারাসু।
MQ-9B Sea Guardian একটি High-Altitude Long-Endurance বা HALE শ্রেণির দূরপাল্লার রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট সিস্টেম। সহজ ভাষায়, এটি এমন একটি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান, যা অনেক উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে পারে। দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এই ধরনের বিমান মূলত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়। সমুদ্রের বিশাল এলাকা নজরে রাখতে এগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও এই বিমানগুলি মূলত সামুদ্রিক নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, MQ-9B Sea Guardian-এ অত্যাধুনিক সেন্সর, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নত পেলোড রয়েছে। ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও কার্যকর হবে।
নৌবাহিনীর জন্য এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে Maritime Domain Awareness বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ। সমুদ্রপথে কোন জাহাজ কোথায় চলছে, কোন এলাকায় অস্বাভাবিক গতিবিধি হচ্ছে, কিংবা কোথাও কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
{{/usCountry}}নৌবাহিনীর জন্য এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে Maritime Domain Awareness বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ। সমুদ্রপথে কোন জাহাজ কোথায় চলছে, কোন এলাকায় অস্বাভাবিক গতিবিধি হচ্ছে, কিংবা কোথাও কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
{{/usCountry}}প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, MQ-9B দীর্ঘ সময় ধরে একটানা নজরদারি চালাতে পারবে। এর ফলে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় Intelligence, Surveillance and Reconnaissance বা ISR ক্ষমতা বাড়বে। অর্থাৎ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই এলাকায় বিভিন্ন দেশের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল রয়েছে। তাই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে দুটি MQ-9B Sea Guardian ভাড়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে দীর্ঘসময় ধরে নজরদারি চালানো এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এগুলি নৌবাহিনীকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
তবে এই চুক্তিটি স্থায়ী কেনাকাটা নয়। ভারত সরকার আপাতত ৩০ মাসের জন্য দুটি বিমান ভাড়ায় নিচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ভারত মহাসাগরে নৌবাহিনীর চোখ আরও দূর পর্যন্ত পৌঁছবে বলেই মনে করা হচ্ছে।