Nagaland Update: নাগা বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগালিম (এনএসসিএন-আইএম)-এর মধ্যে বড় ধরনের ভাঙন প্রকাশ্যে এল। মায়ানমারভিত্তিক ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী বা প্রোভিশনাল সরকার গঠনের ঘোষণা করেছে। এই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রয়াত চেয়ারম্যান ইসাক চিশি সুয়ের ছেলে ইকাতো আই. চিশি সু। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে থুইঙ্গালেং মুইভাহের নেতৃত্বাধীন হেবরন-ভিত্তিক মূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ কার্যত চূড়ান্ত হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু নাগা শান্তি প্রক্রিয়াকেই জটিল করবে না, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের শান্তি আলোচনার উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই মায়ানমারের মাউন্ট হোরেব ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি জয়েন্ট এমার্জেন্সি মিটিং’-এ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ. এস. রামসান। বৈঠকের শেষে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, নাগা রাজনৈতিক আন্দোলনকে বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধার করতেই এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে নাগা জনগণ এবং সংগঠনের কর্মীদের এই নতুন নেতৃত্বকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন প্রোভিশনাল সরকারের চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইকাতো আই. চিশি সু-কে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ. এস. রামসান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভিক্টর আঙ্গামি, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ. রমন, ব্রিগেডিয়ার ডিটেল দানি এবং আংয়ো জ্যাকব জিংসেয়া। উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে নগরানমি জাগোই, মেরি রামসন এবং রেভারেন্ড ভিটোভি ইয়েপুথোকে।
এই ঘোষণার আগে এনএসসিএন-আইএম-এর মূল নেতৃত্ব রামসান, রমন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছিল। ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক সেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ এবং অকার্যকর’ বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে দিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ধাপে ধাপে একটি আপসের চুক্তির পথ তৈরি করার চেষ্টা করছে বর্তমান নেতৃত্ব, যা নাগা জনগণের সার্বভৌম অধিকারের পরিপন্থী।
শুধু তাই নয়, ভারত সরকারের সঙ্গে চলা শান্তি আলোচনায় এনএসসিএন-আইএম নেতৃত্ব যে ‘কম্পিটেন্সিজ’ বা ক্ষমতার কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক। তাদের দাবি, এই প্রস্তাব নাগা জনগণের সার্বভৌম অস্তিত্বকে দুর্বল করে এবং সংগঠনের সংবিধান ‘ইয়েহজাবো’-র মূল নীতির বিরোধী।
{{/usCountry}}শুধু তাই নয়, ভারত সরকারের সঙ্গে চলা শান্তি আলোচনায় এনএসসিএন-আইএম নেতৃত্ব যে ‘কম্পিটেন্সিজ’ বা ক্ষমতার কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক। তাদের দাবি, এই প্রস্তাব নাগা জনগণের সার্বভৌম অস্তিত্বকে দুর্বল করে এবং সংগঠনের সংবিধান ‘ইয়েহজাবো’-র মূল নীতির বিরোধী।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নতুন গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রতিশ্রুতি কেন্দ্র সরকার পূরণ করেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির চেতনা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সশস্ত্র প্রতিরোধও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভারতের জন্য এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এনএসসিএন-আইএম উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী বিদ্রোহী সংগঠন এবং ১৯৯৭ সাল থেকে তাদের সঙ্গে কেন্দ্রের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে নাগা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা শুরু হলেও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এখন সংগঠনের মধ্যেই যদি সমান্তরাল নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, তাহলে কেন্দ্রকে একাধিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হতে পারে। এতে শান্তি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া নতুন গোষ্ঠী যদি সশস্ত্র আন্দোলনের পথে সক্রিয়ভাবে ফিরে যায়, তবে নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমের কিছু সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হতে পারে। মায়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিদ্রোহী সংগঠনগুলির ঘাঁটি থাকায় সীমান্ত নিরাপত্তার উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিভাজনের ফলে উত্তর-পূর্বে নতুন করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে নাগা শান্তি প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই এখন কেন্দ্র সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।