নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চ যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, শুক্রবার তা খারিজ করে দিল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে নতুন মামলায় গ্রেফতার থেকে যে সুরক্ষা পেয়েছিলেন মিলন, তা আর থাকল না। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে নয়, প্রয়োজন হলে তাঁকে জামিনের আবেদন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মিলন প্রধানকে একটি নতুন মামলায় আপাতত গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ যেন কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করে, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়। নির্দেশের মেয়াদ ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল। একক বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই দ্রুত ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার।
শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে বলা হয়, মিলনকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অতিরিক্ত একটি মামলায় পরে তাঁকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলেও রাজ্যের তরফে জানানো হয়।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের বক্তব্য ছিল, মিলনের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির কয়েকটিতে ২০২১ সাল থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। আগের সরকার মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছিল বলে দীর্ঘ সময় সেগুলিতে কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই বর্তমানে সেই পরোয়ানাগুলি কার্যকর করা হচ্ছে বলেও রাজ্যের দাবি।
অন্য দিকে, মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন। এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে তাঁর অভিযোগ। ১৮ সেপ্টেম্বর একটি রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থন পাওয়ার পর পুরনো মামলায় গ্রেফতারির ঘটনাটি সামনে আসে। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই পদক্ষেপের ফলে মিলনের নির্বাচনী প্রচারে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন মামলায় রক্ষাকবচের আবেদন করা হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী।
{{/usCountry}}অন্য দিকে, মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন। এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে তাঁর অভিযোগ। ১৮ সেপ্টেম্বর একটি রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থন পাওয়ার পর পুরনো মামলায় গ্রেফতারির ঘটনাটি সামনে আসে। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই পদক্ষেপের ফলে মিলনের নির্বাচনী প্রচারে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন মামলায় রক্ষাকবচের আবেদন করা হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী।
{{/usCountry}}তবে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কাউকে আইনের বাইরে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। আদালতের বক্তব্য, একজন প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচনে লড়ার অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু সেই কারণে ফৌজদারি আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা যায় না। জামিনের প্রয়োজন হলে সেই আইনি পথেই যেতে হবে। প্রয়োজনে ছুটির দিনেও আদালত বসে জরুরি আবেদন শুনতে পারে বলেও জানানো হয়।
এই মামলার সূত্রপাত ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলাকে ঘিরে। খুন, খুনের চেষ্টা, লুটপাট এবং বেআইনি জমায়েতের মতো অভিযোগে মিলনের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো নিয়ে আইনি টানাপড়েন শুরু হয়।
এদিকে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে প্রার্থীর গ্রেফতার এবং তার পরের আদালত পর্ব রাজনৈতিক ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিলনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ তোলা হলেও রাজ্য তা অস্বীকার করেছে এবং পুরনো মামলার পরোয়ানা কার্যকর করার কথাই জানিয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চের শুক্রবারের সিদ্ধান্তের পরে এখন মিলন প্রধানের সামনে মূলত জামিনের আইনি পথই খোলা থাকল। ফলে তিনি কী ভাবে এবং কত দ্রুত সেই প্রক্রিয়ায় যান, তার উপরই আগামী দিনের অনেক কিছু নির্ভর করছে।