Modi on Terrorism at SCO Summit: কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ফের যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দিলেন কড়া বার্তা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নেই। বিশ্বের সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাতের সমাধান করতে হবে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে।
বিশ্বজুড়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে, ঠিক সেই সময় এসসিও-র মঞ্চে মোদীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
তবে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দ্বৈত নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদী।
মোদীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দ্বৈত নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদী স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না।
{{/usCountry}}ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদী স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না।
{{/usCountry}}এবার বিশকেকে সেই একই বার্তা আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে যুদ্ধের বদলে কূটনীতি, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই—দুটি বিষয়কেই ভারতের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে তাঁর বক্তব্য।
এসসিও-র এই সম্মেলনে তাই শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও সামনে এসেছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মোদীর বার্তা স্পষ্ট—**সংঘাত যতই গভীর হোক, সমাধানের পথ যুদ্ধ নয়; আলোচনার টেবিলেই খুঁজতে হবে তার পরিণতি।