...
...
Next Story

'প্রধানমন্ত্রী নয়, ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত মোদীর', নমোকে কটাক্ষ অভিজিৎ দীপকের

মহারাষ্ট্রের নিজের শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, 'আমার মনে হয়, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সেই কাজটাই খুব ভালো করছেন। যদি তিনি এতই ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কাউকে দেশের কাজ করতে দিন।'

Published on: Jul 30, 2026, 09:43:09 IST
Advertisement

ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke) ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নরেন্দ্র মোদীর ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়াই উচিত। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার না করা হলে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিজিৎ দীপকে (@narendramodi)
ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিজিৎ দীপকে (@narendramodi)

মহারাষ্ট্রের নিজের শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, 'আমার মনে হয়, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সেই কাজটাই খুব ভালো করছেন। যদি তিনি এতই ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কাউকে দেশের কাজ করতে দিন।'

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই মন্তব্য করেন দীপকে। এর আগে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সংসদে একই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছিলেন, 'ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলালেই জেন-জি-র সমর্থন পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার নয়, হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।'

লোকসভায় সম্প্রতি পাস হওয়া প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়েও সরব হন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, শুধু আইন তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেই আইন সঠিকভাবে কার্যকর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীপকের কথায়, 'দেশে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু যারা সেই আইন কার্যকর করবেন, তাঁদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনও আইনই কাজে আসবে না।'

গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র সংসদ অভিযানের ডাক দেয়। নিট প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন হয়। আন্দোলনের পাঁচ দিনের মাথায় ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

তবে আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ, ছাত্রদের আটক এবং একাধিক এফআইআর দায়েরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। সিজেপির দাবি, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে, নতুন করে কোনও মামলা করা হবে না এবং সেই বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে। কিন্তু দীপকের অভিযোগ, বাস্তবে এখনও বহু ছাত্রকে আটক করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, সরকারের আশ্বাসের পরেও ছাত্রদের ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যদি এফআইআর প্রত্যাহার না করা হয় এবং ছাত্রদের এভাবে হয়রানি করা চলতে থাকে, তাহলে আমরা আবার আন্দোলনে নামব। আগের আন্দোলনের থেকেও বড় আন্দোলন হবে।' আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ এবং পেলেট ব্যবহারের অভিযোগও ফের তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, 'একজন ছাত্রের বাড়িতে চারটি ভোট থাকে। যদি একজন ছাত্রের ওপর পেলেট চালানো হয় বা লাঠিচার্জ করা হয়, তাহলে সেই পরিবারের ভোট সরকার হারাবে। এখনও সময় আছে, নিজেদের শুধরে নিন। না হলে নির্বাচনে ছাত্ররাই জবাব দেবে।' অভিজিৎ দীপকের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগগুলির বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe