ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যখন একাধিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা এবং তার পালটা জবাব নতুন করে নজর কেড়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তারেক রহমান এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তাঁর ৭৬তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মোদীও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে জবাব দেন। দুই নেতার এই সংক্ষিপ্ত বার্তাবিনিময়কে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সৌজন্যমূলক কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান তাঁর বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তিনি ভারতের জনগণের প্রতি মোদীর নিবেদিত সেবার প্রশংসা করে তাঁর সুস্বাস্থ্য এবং কর্মোদ্যম বজায় থাকার শুভকামনা জানান। মোদী পালটা লেখেন, “আপনার উষ্ণ শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনার আন্তরিক কথার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
এই সৌজন্য বার্তাবিনিময়ের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ ২০২৬ সালে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যের জায়গা হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসিনা-সহ ভারতে থাকা পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও এই অবস্থান প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নকে ঘিরে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অগস্টে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যাতে সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়া যায়। ভারতও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত পরিস্থিতি, জলবণ্টন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত। বিশেষ করে তিস্তা ও গঙ্গা জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ সরকারের বিদেশনীতি কোন পথে এগোবে এবং চিন, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, সেদিকেও নজর রয়েছে দিল্লির।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত পরিস্থিতি, জলবণ্টন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত। বিশেষ করে তিস্তা ও গঙ্গা জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ সরকারের বিদেশনীতি কোন পথে এগোবে এবং চিন, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, সেদিকেও নজর রয়েছে দিল্লির।
{{/usCountry}}তবে টানাপোড়েন থাকলেও সম্পর্ক একেবারে থমকে নেই। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিলেন। ভারত জানিয়েছিল, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা আগ্রহী।
সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায় ঢাকা। যদিও সফরের সময় এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যুতে এখনও সমঝোতা হয়নি।